বৈদেশিক সহায়তায় ধস, অর্থ ছাড় ২৯% কমে গেছে

0
104
Euro-dollar_pound_yen
ডলার, ইউরো, পাউন্ড, ইয়েন

Euroসরকারের মেয়াদের শেষ ভাগে বৈদেশিক সহায়তায় ধস নেমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এ সময়ে ছাড় হয়েছে ৫৭ কোটি ৬৮ লাখ  ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৯ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম চার মাসে ৮০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার ছাড় করেছিল দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ছাড়কৃত অর্থের মধ্যে ৭৫ ভাগই হচ্ছে ঋণ, যা সুদসহ ফেরত দিতে হবে।অফেরতযোগ্য অনুদান মাত্র ২৫ শতাংশ। ছাড় করা অর্থের মধ্যে ৪৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে ঋণ বাবদ। অনুদান বাবদ এসেছে মাত্র ১৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের মেয়াদে শেষ ভাগে নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারের সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগের অভাব-এসব কারণে বিদেশী সহায়তা-নির্ভর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগুচ্ছে ধীর গতিতে। তাই অর্থের ছাড় কমে গেছে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়তে পারে। তেমনটি হলে চলতি বছরের বাকী মাসগুলোতেও সহায়তার অর্থ ছাড়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থ ছাড় আরও কমে যেতে পারে।

আলোচিত সময়ে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাওয়া গেছে জাপানের কাছ থেকে। একক দাতা হিসেবে সবচেয়ে বড় দাতা-দেশটি চার মাসে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এর পরেই আছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা আইডিএ। এ সংস্থাটি ছাড় করেছে ১২ কোটি ডলার। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)  কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য সরকারের সংস্থা ডিএফআইডি থেকে ১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাওয়া গেছে।

জুলাই-অক্টোবর সময়ের জন্য বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ১৩২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। এর মধ্যে ১১৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার ঋণ। বাকী ১৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার অনুদান।

তবে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহে ঋণাত্মক ধারা দেখা দিলেও ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ তার সুনাম ধরে রেখেছে। গত প্রান্তিকে  আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৩ কোটি ডলার বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে দাতাদেরকে। এ সময়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের আসল ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও বাকীটা সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। আগের বছরের এই সময়ে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের আসলসহ ৩১ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।