২০১৩ সাল গ্রামীণফোনের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর

0
97
GP-Press-Conference

GP-Press-Conferenceসদ্যসমাপ্ত ২০১৩ সালকে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে অভিহিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে গ্রামীণফোন। সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে গ্রামীণফোনের হেড অব কর্পোরেট  অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসেন, সিএমও অ্যালান বকে, হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশনস তাহমিদ আজিজুল হকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ২০১৩ সালে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৯ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির গ্রাহক সংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৪ কোটি ৭১ লাখ গ্রাহক রয়েছে। দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে যা ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের সিইও বিবেক সুদ বলেন, ২০১৩ সাল ছিল গ্রামীণফোনের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। যখন আমরা থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছি, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করেছি, আমাদের বাজার কাঠামোকে ঢেলে সাজিয়েছি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সুবিধাজনক স্থানে যেতে সহায়তা করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) তানভীর মাহমুদ জানান, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে আরও ৮টি জেলায় থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এভাবে ২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরকে থ্রিজির আওতাভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগ ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির আঙ্গিকে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মাইনুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আয়কর প্রদানের পর ২০১২ সালে এর শতকরা ১৯ ভাগ মার্জিনসহ ১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা মুনাফার তুলনায় ২০১৩ তে নিট মুনাফা হয়েছে শতকরা ১৫দশমিক ২ ভাগ মার্জিনসহ ১হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১০দশমিক ৮৯ টাকা যা ২০১২ তে ছিল ১২দশমিক ৯৬ টাকা। ফলে শেয়ার প্রতি আয় ১৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। ২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২দশমিক ৯৫ টাকা যা ২০১২ সালের একই সময় ৩ দশমিক ৪২ টাকা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রামীণফোন ২০১৩ সালে তার থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজি নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ১হাজার ২৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামীণফোনের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৪হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। এদিকে দেশের বৃহত্তম করদাতা গ্রামীণফোন ২০১৩ সালে সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট এবং শুল্ক হিসেবে ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এর মধ্যে টুজি নবায়নের তৃতীয় কিস্তি এবং থ্রিজি স্পেকট্রাম ফি এর প্রথম কিস্তির ১হাজার ৭৫০ কোটি টাকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং টুজি নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা ও সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে এক হাজার ২৭০ কোটি টাকা। গ্রামীণফোন সমাজের ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গেল বছরের অক্টোবরে বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি চালু হওয়ার পর গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে সমাজের ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে সংঘাতের ফলে কমে যাওয়া ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মধ্যে এই প্রবৃদ্ধির ধারা অর্জন সম্ভব হয়েছে। নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক সাশ্রয়ী অফারের কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।  এছাড়াও থ্রিজির কারণে ডিভাইস বিক্রি বৃদ্ধি, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ইন্টারকানেকশন মিনিট বৃদ্ধি, হোলসেল এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসও প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। গত বছর গ্রামীণফোনে নতুন ৭১ লাখ গ্রাহক যোগ হয়েছেন, ফলে বছর শেষে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৭১ লাখে। যা দেশের মোট গ্রাহকের ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।দেশের মোট গ্রাহক প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ১ ভাগের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি নিয়ে গ্রামীণফোন তার নেতৃত্বে আরো দৃঢ় করেছে। বিতরণ ব্যবস্থার বিস্তার এবং খুচরা বিক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আনুগত্য এই অর্জনে সহায়তা করেছে বলেও এতে জানানো হয়েছে।