সোনালী ব্যাংকের চেক জালিয়াতি: মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক

0
140
Acc_sonalibankসোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার তিনটি একাউন্টের বিপরীতে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের ১৮ টি ব্যাংক থেকে সাড়ে আঠারো কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কিছু মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ  হিসেবে ওয়ান ব্যাংক প্রগতি স্মরণি শাখার একটি একাউন্ট থেকে ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন দিল দুদক।

কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ মামলার চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান কমিশনের উপসহকারী পরিচালক মো. হুসাইন শরীফ।

যাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হচ্ছে তারা হলেন, সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আজিজুল হক, এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মাহতাব উদ্দিন আহমদ. সাবেক সার্পোটিং অফিসার মাইনুল হক ও আজিজুল হক, শ্যামল বাংলা হাউজিং এর কর্মকর্তা মো, নুরে আলম, মো. শহিদুল হক, মো. আমিনুল হক সরকার, মোজাফ্ফর হোসেন, মো. হায়দার আলী, মো. সাগর আহমেদ। তবে শ্যামল বাংলা আবাসন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেকের বিরুদ্ধে এ মামলায় কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বলে জানায় দুদক।তবে তার বিরুদ্ধে বাকী মামলাগুলোতে তদন্ত চলছে।

দুদক সূত্র জানায়, শ্যামল বাংলা আবাসন প্রকল্প লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সালেকের নেতৃত্বে একটি চক্র সোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখায় তিনটি একাউন্ট খোলে। একই ব্যাক্তিরা জালিয়াতির উদ্দেশে দেশের আরও ১৮টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৩৩টি একাউন্ট খোলে। এরমধ্যে ঢাকাতে ৩২ ও চট্টগ্রামে একটি একাউন্ট খোলা হয়।

সূত্র আরও জানায়, জালিয়াত চক্রটি বাংলাদেশ অটোমেশন ক্লিয়ারিং হাউজিং আইনের সহায়তা নিয়ে এমআইসিআর চেকের মাধ্যমে মূল ভাইচার পরিবর্তন করে নকল ভাউচার তৈরি করে ও  সোনালী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারেন্স নেয়। অথচ তারা ব্যাংকে কোন টাকা জমা করেনি। আর এসব ক্লিয়ারেন্স দেখিয়ে দেশের অন্যান্য ব্যাংকের শাখা গুলো থেকে এমআইসিআর চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ান ব্যাংক প্রগতি স্মরণি শাখা থেকে ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্নসাৎ করে চক্রটি। আর এ অভিযোগের তদন্ত শেষে জালিয়াতির প্রমান পায় দুদক।

বিষয়টি তদন্ত শেষে প্রমা্ন পাওয়ার পর দুদক আইন ২০০৪ এর ৩২ ও বিধি মালা ২০০৭ এর ১৫(১) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২)(ট)(আ) ধারা অনুযায়ী চার্জশীট দাখিল করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হোসাইন শরীফ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জালিয়াত চক্রটির বিরুদ্ধে মাঠে নামে দুদক। যাতে কমিশন সাড়ে আঠার কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়ান ব্যাংক প্রগতি স্মরনী শাখা থেকে একটি একাউন্ট থেকে ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন দিলেও আরও বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত চলছে।