রংপুরে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়

0
50
rangpur-map

rangpur-mapঅবরোধের দ্বিতীয় দিনে সিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে রংপুরের ট্রেন ব্যবস্থা। এ ছাড়াও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজুর নেতৃত্বে আঠারো দলের নেতাকর্মীরা নগরীর স্টেশন বাবুপাড়া রেলগেটে গিয়ে লাইনের উপরে অবরোধ গড়ে তোলে। এসময় সেখানে তারা সমাবেশ করেন। এ কারণে কিছুক্ষণের জন্য রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ৬১ নং লোকাল ট্রেন এবং দোলন চাপা ট্রেনটি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব ও পুলিশ উপস্থিত হলে তারা সরে পড়ে।

এদিকে অবরোধের কারণে স্টেশনে-স্টেশনে বাধার মুখে পড়ে দোলনচাঁপা, সেভেনআপসহ বিভিন্ন ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এর মধ্যে মঙ্গলবার দোলনচাঁপা রংপুর স্টেশনে ৫ ঘণ্টা এবং সেভেন আপ ৮ ঘণ্টা পর স্টেশনে পৌঁছে।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশন সুপারেনটেনডেন্ট মোজাম্মেল হক জানান, সকাল ১০টার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের রেল লাইনের প্রত্যেকটি ব্রিজ কালভার্টসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নাশকতা ঠেকাতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে।

অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও মডার্নমোড়ে ডায়মন্ড হোটেলের সামনে মহাসড়কের ওপর গতকালও মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশ করে আঠারো দলীয় জোট। দিনভর সেখানে দফায় দফায় বিএনপি, জামায়াত, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শিবির সম্মিলিত এবং পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল, মিটিং সমাবেশ করে। এদিকে অবরোধে ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচল না করায় কার্যত অচল হয়ে আছে নগরী।

কোতয়ালী থানার ওসি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, কেউ নাশকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা কঠোরভাবে এমন করা হবে।

বদরগঞ্জ: উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি পরিতোষ চক্রবর্তী, উপজেলা জামায়াত আমীর শাহ মোহাম্মদ রুস্তমসহ আঠারো দলীয় নেতাদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন, শহীদ মিনার, হকের মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন সড়ক ও রেলস্টেশনে পিকেটিং হয়। এ ছাড়াও শ্যামপুর, ট্যাক্সেরহাটেও পিকেটিং ও সমাবেশ হয়েছে।

তারাগঞ্জ: উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম খান ও জামায়াত সেক্রেটারি মাহবুবুর রশিদ বাবুলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় চৌপথিতে মহাসড়কে পিকেটিং হয়।

মিঠাপুকুর: উপজেলা জামায়াতের গোলাম রববানী, সেক্রেটারি এনামুল হক ও হাফিজুর রহমান, শিবির সভাপতি তারেকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এ সময় জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা শঠিবাড়ি, দুলাহপুর এলাকায় পিকেটিং করে তারা। সমাবেশে দুলাহপুরে যুবলীগ কর্তৃক জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদ জানানো হয়।

পীরগাছা: জেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজী আবু তাহের, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আফসার আলীম সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাস রাঙ্গা, জামায়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক বজলুর রশিদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চৌধুরানী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রায়হানুল করিম সরকার রায়হানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং হয়। এ ছাড়াও কদমতলি, দেউতি, বড় দরগা, কালিগঞ্জ বাজার, পাওটানা, তাম্বুলপুর ও সাতদরগায় পিকেটিং করে আঠারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

গঙ্গাচড়া: উপজেলা জামায়াত আমীর অধ্যাপক শফিকুল আলম ও সেক্রেটারি রায়হান সিরাজীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে। এছাড়া বুড়িরহাট, আলমবিদিতর, তুলসীর হাট, পাকুড়িয়া শরীফ ও খলেয়া গঞ্জিপুর এলাকায় পিকেটিং ও বিক্ষোভ করে আঠারো দলীয় জোট।

কাউনিয়া: উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম শফিক ও জামায়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কাউনিয়া সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এছাড়াও গালর্সস্কুল মোড়, শহীদবাগ, মীরবাগ, হারাগাছ, টেপা মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করে আঠারো দলীয় জোট।

পীরগঞ্জ: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ মণ্ডল ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জামায়াত আমীর গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পৃথক পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এআর