রাজশাহীতে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে আহত অর্ধশতাধিক, আটক ১৫

0
114

Strickআঠারো দলের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিন বুধবার রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সারাদিনে আহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। এদিন সারাদিনে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সিটি কলেজ এলাকায় পিকেটিং শুরু করে অবরোধকারীরা। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৫ অবরোধকারী আহত হয়।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা রাজশাহী কলেজের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ অবরোধে বাধা দিলে জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। হরতালকারীরা শতাধিক হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় বোমার আঘাতে দাঙ্গা পুলিশের কনস্টেবল সবুরসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় রাজশাহী কলেজসংলগ্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাশ্ববর্তী সোনাদীঘি মোড়, সাহেববাজার মোড় ও মালোপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায়।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা।  নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তিন শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুসহ ১৮ দলীয় জোটের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  জিয়াউর রহমান বলেন, বুধবার সারাদিন রাজশাহীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলনসহ নেতাকর্মীদের গুলির প্রতিবাদে বুধবার রাজশাহীতে এ অর্ধদিবস হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।  মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মহানগরীতে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাবের টহল চলছে।

এআর