রাজশাহীর পদ্মায় এখন কুল ও আমবাগান

0
96
Rajshahi

Rajshahiরাজশাহীর বাঘা উপজেলার মূল পদ্মা নদীতে এখন আর পানি জমে থাকে না। প্রায় ৫০ -এর দশকে তৈরি পদ্মা নদীতে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ দেওয়ার পর রাজশাহীতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ফলে মরুকরণ শুরু হয়েছে কয়েক বছর ধরে। বর্তমানে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শত শত মাইলজুড়ে ধূ ধূ চর আর বালি।

এ অঞ্চলের মানুষ ভুলে গেছে সুস্বাদু ইলিশ আর মজাদার মিঠা পানির মাছের কথা। তারপরও তাদের জীবন থেমে নেই। বাঁচার তাগিদে মানুষ নদীর চরে নানা ফসল আবাদের পাশাপাশি তৈরি করতে শুরু করেছে কুল ও আমবাগান।

চরবাসীরা জানান, বন্যা অথবা পানির অভাবে কোনো কোনো বছর তারা ভালো ফসল ঘরে তুলতে পারেন না। কিন্তু আম ও কুল বাগান তাদের ফাঁকি দেয় না। ফলে নদী ও চর এলাকার কৃষকরা এখন প্রলুব্ধ হচ্ছেন আম এবং কুলচাষের দিকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মায় পানিশূন্য হবার পর থেকে নদী ও চর এলাকার কৃষকরা নানা ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি আম এবং কুল বাগান তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক্ষেত্রে তারা প্রথমে পদ্মার বালি সরিয়ে সেসব স্থানে রোপণ করেন আমের কলম। অনেকেই মাটির ঢিপু বানিয়ে সেখানে রোপণ করেন আমের চারা। এভাবেই তৈরি হতে থাকে আমের বাগান। অনুরূপভাবে তৈরি হয় কুল বাগান।

বাঘার চরাঞ্চলের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের এলাকায় আম ও কুল বাগান তৈরি হওয়াতে চর রূপান্তরিত হয়েছে সবুজ বনভূমিতে। এর ফলে আবহাওয়ারও অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, বর্তমানে আম ও কুল বাগান চরাঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজুর রহমান ও ছোলেমান দেওয়ান জানান, চরে গড়ে ওঠা বাগানের আমের বৈশিষ্ট্য একটু ভিন্ন ধরনের। এখানকার আম স্বাদে মিঠা এবং পোকা ধরে না। আমের রং হয় আকর্ষণীয়।

এ প্রসঙ্গে বাঘা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, বাঘার আম এমনিতেই দেশে বিখ্যাত। তারপরে চরাঞ্চলে বর্তমানে যে আম উৎপাদিত হচ্ছে সেটার গুণগত মান আরও ভালো। চরে আমবাগান হওয়ায় আবহাওয়া যেমন সুষম হচ্ছে, তেমনিভাবে নতুন নতুন চর বাঁধছে আর এতে লাভবান হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কেএফ