টুটুলের লাইব্রেরি

0
53
Jhenidah photo Library

Jhenidah photo Libraryঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কালুহুদা গ্রামের ছেলে টুটুল। তিল তিল করে গড়ে তুলেছে একটি সুদর্শন লাইব্রেরি। ২০০১ সালে কলেজ ছাত্র এম টুটুল বন্ধু ও স্বজনদের কাছ থেকে মাত্র ৫০টি বই নিয়ে বসত ঘরের সাথে টিনের চালা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন লাইব্রেরি। গ্রামে সাধারণ মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে টুটুলের ১১ বছরের সে প্রচেষ্টা আজ সফল হতে চলেছে।

আজ লাইব্রেরির জন্য নিজস্ব একটি ঘর হয়েছে। বইয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার। আর এ বইগুলো দান করেছেন সমাজের বিজ্ঞজনেরা। বই দিয়েছেন রাবেয়া হামিদ ফাউন্ডেশন, প্রফেসর নাহিদ কাইয়ুম, আরিফ ময়েনউদ্দিন, প্রফেসর খাদেজা খাতুন, প্রফেসর মরহুম শরীফ হোসেন, আমিরুল আলম খান, সেলিনা জামান, মিন্নাত আলি, ঢাকার উত্তারাধিকারসহ মোট ১২৪ জন।

কালুহুদা ছাড়াও, শাহাপুর, জাগুশা, জোকা, হাবাসপুর, মির্জাপুর, ভবেরপাড়া, বাথানগাছি, ধোপাতলা প্রভৃতি গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন পাঠক আসেন বই ও খবরের কাগজ পড়ার জন্য। দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। লাইব্রেরিতে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই, কিশোরতোষ, শিশুতোষসহ নানান ধরনের বই। লাইব্রেরির পরিসর আরও বাড়াতে চান তিনি।

কালুহুদা গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র সাফিন আহমেদ জানায়, সে প্রতিদিন বই ও খবরের কাগজ পড়ার জন্য লাইব্রেরিতে আসে। মহেশপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী লাভলী খাতুন জানায়, গ্রামের এ লাইব্রেরিটি তাদের মতো দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের উপকার হচ্ছে। তারা ক্লাশের পাঠ্যবই এখানে পড়তে পারছে।

টুটুল বলেন, গ্রামের মানুষ মনে করে লাইব্রেরি শুধু শিক্ষিত মানুষের জন্য। কিন্তু তিনি মনে করেন, লাইব্রেরি সবার জন্য। তার স্বপ্ন লাইব্রেরিকেন্দ্রিক একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা। এজন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন।  ইন্টারনেট  হলে কৃষি বিষয়ক নানান তথ্য জানতে পারবে আশেপাশের গ্রামের চাষিরা। একটি ইংরেজি ও দুটি বাংলা জাতীয় সংবাদপত্র একজন ডোনেট করতেন। ইংরেজি কাগজটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলা দুটিও এ মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।  এতে লাইব্রেরির আকর্ষণ কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

টুটুলরা ৬ ভাই ও এক বোন। অনেক আগে বাবা মারা গেছেন। তেমন জায়গা জমি নেই। ৪ ভাই এলাকার বাইরে চাকরি করেন। বাড়িতে মা ও এক ভাই থাকেন। বিঘা পাঁচেক জমি আছে। তা ভাই চাষাবাদ করেন। বি কম পাশ টুটুল লাইব্রেরি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মা লাইব্রেরি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন।

কেএফ/ এআর