ঝিনাইদহে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
41
Ovijug

Ovijugঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বরাদ্দকৃত স্লিপ প্রকল্পের প্রায় ১৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উঠেছে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি মহল এই অভিযোগ করেছে। টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষকরা ফুঁসে উঠেছেন। তারা ২-৩ দিনের মধ্যে আন্দোলনে যাবেন বলেও জানাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় অবস্থিত ২০৪টি সরকারি ও বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান (স্লিপ) নামের প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর আলী জোরপূর্বক সদর উপজেলার সমস্ত সরকারি ও বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকার চেকে সই করিয়ে নেন। পরে তিনি প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে ২০৪টি বিদ্যালয়ে নগদ দুই হাজার টাকা, ২টি ফুটবল, ১টি কেরাম ও একটি করে দোলনা দিয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিটি বিদ্যালয়ে নগদ ২ হাজার টাকাসহ সর্বসাকুল্যে ৭ হাজার টাকার সরঞ্জাম দিয়েছেন। বাকি ৮ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। সবমিলিয়ে সদর উপজেলার ২০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সাধারণ শিক্ষকরা দাবি করেছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার নম্বরপত্র বিনামূল্যে প্রধান শিক্ষকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি জোরপূর্বক নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিটি নম্বরপত্র বাবদ ১ টাকা করে নিয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর আলী জোর করে তাকে দিয়ে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত স্লিপ প্রকল্পের ১৫ হাজার টাকার চেকে সই করিয়ে নিয়েছেন। পরে তিনি তাকে নগদ দুই হাজার টাকাসহ প্রায় ৭ হাজার টাকা মূল্যের কিছু সরঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত এই টাকা পেলে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হত। কিন্ত শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ-দুর্নীতির কারণে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। একই অভিযোগ করেছেন চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খায়রুন নাহার ও কাশিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওসমান আলী।

অপরদিকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে আকবর আলীর বলেন, “আমি কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত নই বা জোর করে কোনো চেকে সই করিয়ে নেইনি। সরকার যা বরাদ্দ দিয়েছে বিদ্যালয়প্রতি প্রধান শিক্ষকদের তা-ই দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি দাবি করেছেন সরকার তাদের সমাপনী পরীক্ষার নম্বরপত্র দেয়নি। তাই ছাপানো খরচ বাবদ ১ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপ কুমার বনিক বলেন, প্রধান শিক্ষকরা লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে তিনি আকবর আলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

কেএফ