“মানুষ দৃষ্টিহীন বলেই অন্ধ নয়-মানুষ মূলত প্রজ্ঞাহীন বলেই অন্ধ”

0
157
Sparsho Prokashoni

Sparsho Prokashoni“মানুষ দৃষ্টিহীন বলেই অন্ধ নয়-মানুষ মূলত প্রজ্ঞাহীন বলেই অন্ধ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৯ সালে পথচলা শুরু করেছে স্পর্শ ব্রেইল। সমাজের সবার অবহেলা আর আড়চোখে দেখা এই সকল প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কেউ তেমন কাজ করছে না এমনই অভিযোগ করলেন স্পর্শ প্রকাশনার পরিচালক নাজিয়া জাবীন।

তিনি বলেন, বই মেলায় হাজারো লেখক নানা লেখা লিখেন কিন্তু প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কেউ কিছু লিখেন না। সব লেখক যদি প্রতিবন্ধিদের নিয়ে একটি করেও বই লিখত তাহলে এই সকল প্রতিবন্ধিদের বইয়ের ঝুড়িটা আরও অনেক ভারি হত।

তিনি আরও বলেন, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে প্রথম ব্রেইল ভার্সনে ১টি বই, পরের বছর ১টি গল্পের বই প্রকাশ করেছি। যা অসংখ্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের মুখে একটু হলেও হাসি এনে দিতে পেরেছি।

তিনি বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্রেইল ভার্সনে মোট ২২টি বই প্রকাশ করেছি। তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আবেদন রেখে বলেন, সবাই যেন যার যার অবস্থান থেকে যে যতটুকু পারে সে ততটুকু করবে। প্রকাশকরা তাদের প্রকাশনায় ব্রেইলকে প্রাধান্য দেবে। আগামিতে ব্রেইলে বই মেলার দ্বার উন্মোচিত করবে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ইডেন কলেজের সমাজ বিজ্ঞানের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী রেহেনা তার ব্রেইলে লেখা বই থেকে পড়ে বলেন, মানুষের যত অনুভূতি তার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র অনুভূতি হল ভালবাসা। আর দেশকে ভালবাসা হলো সবচেয়ে বড় ভালবাসা।

তিনি বলেন, আমরা যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আছি সমাজের লোকের একটু খানি ভালবাসা পারে আমাদের আগামি দিনের পথচলার সাথী হতে।

সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের সমাজ সেবা স্টলে ব্রেইলে শিক্ষার বিভিন্ন ধারণা দানকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের স্নাতক ফাইনাল ইয়ারের মাহবুব মোর্শেদ বলেন, কখনো হতাশ হতে নেই, এগিয়ে যেতে হবে সব বাধা পেরিয়ে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে দু:খের বিষয় আমরা সব ধরনের বই পড়তে পারি না।

মোর্শেদ বলেন, আমি দাবা খেলা, ক্রিকেট খেলাও খেলতে পারি। ক্রিকেট খেলা কিভাবে খেলেন জানতে চাইলে তিনি একটি ঝুনঝুনি বলে বের করে বলেন, এই বল যখন করা হয় তখন আমি বলের শব্দের মাধ্যমে ব্যটিং করি।

সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের সমাজ সেবা স্টলে ব্রেইলে শিক্ষা ধারণা দেওয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী সাথী দাশ গুপ্তা বলেন, আমরা কারো করুণা চাই না, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।

তিনি আরও বলেন, ছোট বেলায় ব্যপষ্টিট স্কুলে পড়েছি তখন কোনো বইয়ের সমস্যা হয়নি। এখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বই সংকটে পড়েছি। বই রেকর্ড করে, অডিও শুনে মুখস্থ করতে হচ্ছে। আমাদের আরও একটি বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের জন্য বাংলা বই নেই।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজ সেবা অধিদপ্তরে ব্রেইল শিক্ষা সর্ম্পকে ধারণা দিচ্ছেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.ই আরের ছাত্রী ফাতিমা আক্তার পপি। তিনি বলেন, যার যেটা নেই তা না দেখে তার কি যোগ্যতা আছে তা দেখে তাকে মুল্যায়ন করা উচিৎ। তাই প্রতিবন্ধিদের যোগ্যতা যাচাই করে তাদের সেভাবেই সম্মান করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।