হাউজিং ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামছে দুদক

0
177
ACC + DAP

ACC + DAPরাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপের দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে গঠিত অনুসন্ধান টিম ইতিমধ্যে  রাজউকের নিকট থেকে ড্যাপের কপি সংগ্রহ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে রাজউক তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম।

দুদক সূত্র জানায়, ব্যক্তি পর্যায় থেকে ব্যাপক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক প্রণীত ড্যাপ নিয়ে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অনিয়ম অনুসন্ধানে গত মাসে টিম গঠন করে দুদক। উপপরিচালক মনিরুল হককে প্রধান করে গঠিত দুই সদস্যের এ টিমে রয়েছেন সহকারী পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম। টিমটি গত মাসেই দুই দফা রাজউক এবং ড্যাপ নিয়ে উত্থাপিত আপত্তির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছে।

সূত্র মতে, ড্যাপের নকশা প্রণয়ন, ড্যাপের আওতা থেকে বসুন্ধরা হাউজিংয়ের মতো প্রভাবশালী বেসরকারি আবাসন প্রকল্প বাদ দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় আসবে অনুসন্ধানে। ড্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। একই সাথে এক ডজন ডেভেলপার ও হাউজিং কোম্পানির মালিক ও পদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।

যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন, নকশা জালিয়াতি, অননুমোদিত প্রকল্প দেখিয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, এক অ্যাপার্টমেন্ট ও প্লট একাধিক গ্রাহকের কাছে বিক্রিসহ নানা দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ রযেছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর দুদক ১২টি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। দুই সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। উপপরিচালক মনিরুল হকের নেতৃত্বে টিমটি ১৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার ও হাউজিং প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে চিঠি দেয়।

যেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাওয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে- ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী আবাসিক এলাকা, শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডের মল্লিকা আবাসিক প্রকল্প, নেপচুন ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, বিডিএল নতুন ধারা হাউজিং কোম্পানি, এডিএল হাউজিং কোম্পানি, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেড, আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এসএম আবাসন লিমিটেড, হ্যাভেলি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্সপায়ার্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

সূত্র জানায়, চিঠির অধিকাংশ জবাবই দুদকের হাতে পৌঁছেছে। তাতে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্র মতে, রাজউক ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর নথি, রাজউকে রক্ষিত তথ্য ও কাগজপত্র হস্তগত করেছে। নথিগুলো পর্যালোচনাও শেষের দিকে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। বিশেষ করে নকশা জালিয়াতি, প্রকল্পের ভুয়া অনুমোদন সৃজন এবং গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

ভুয়া প্রকল্পের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, কিস্তি পরিশোধ সত্ত্বেও ফ্ল্যাট বা প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া, একই ফ্ল্যাট বা প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে হাউজিং কোম্পানি ও ডেভেলপারদের। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক তাদের সম্পদ বিবরণী চাইবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করে।