‘বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে পাটশিল্প ধ্বংস করেছে এরশাদ-খালেদা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
31
Mirza Azam
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জিয়া-এরশাদ-খালেদা দেশের পাটশিল্পকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

আজ রোববার দুপুরে সাভারের নামাবাজার এলাকায় চালের আড়তে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় এ অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাটশিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ জুটমিল আদমজী বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ ৩ লাখ বেল পাটজাত পণ্যের বাজার হারায়।’

তিনি বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে শতভাগ সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে সরকার। এক্ষেত্রে শতভাগের ওপর আরও পঞ্চাশ ভাগ সফলতা আসবে সরকারের।

এমন তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মির্জা আজম বলেন, আমরা ছয়টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মোড়কজাত করার কথা বলেছি। ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি। কিন্তু আপনারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখবেন, ইতোমধ্যে ৬টি পণ্যের বাইরে আদা, রসুন, ছোলা, পেঁয়াজ এগুলোর ক্ষেত্রেও কিন্তু মানুষ স্বেচ্ছায় প্লাস্টিক ব্যাগ বর্জন করে পাটের ব্যাগ ব্যবহার শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একটি আইনের প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। জোর করে, জেল দিয়ে, জরিমানা করে এই আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। তবে যারা আইন মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চলমান অভিযান বন্ধ করে দিলে হবে না। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পণ্যে পাটজাত মোড়ক বাধ্যতামূলক করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে আবারও সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত করতে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। যে সব শ্রমিক আগে পাটশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরকে আবার ফিরিয়ে আনতে বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।