ক্যাডার বঞ্চিতদের কপাল খুলছে পোশাক কারখানায়

0
139

sochebaloyবিসিএস ক্যাডার বঞ্চিতদের কল-কারখানা পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার মূলক বাণিজ্যিক সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে চলতি বছরের মে’র মধ্যে শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে পরিদর্শক নিয়োগের এই উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদে বলেন, জিএসপির ১৬ শর্ত চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে পূরণ করে যুক্তরাষ্টের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এই বাণিজ্যিক সুবিধা ফিরে পেতে যুক্তরাট্রের দেওয়া ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৩ পূরণ করেছে বাংলাদেশ।তাই সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে এই ২০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সোমবার সচিবলায়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিএসপির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শর্ত পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্বাহী আদেশে’ এই ২০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সচিবালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পায়নি তাদের মধ্য থেকে শিগগিরই কল কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,গত ৩১ তম বিসিএস থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পদ স্বল্পতায় যারা ক্যাডার পাননি তাদের পর্যায়ক্রমে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিয়ে আসছে পিএসসি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, কল কারখানা পরিদর্শকদের পদটি প্রথম শ্রেণির হওয়ায় বি্সিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে তা পূরণ করলে কোনো জটিলতা থাকবে না বলে বৈঠকে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৩টি ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে।

যে তিনটি শর্ত এখনো পূরণ হয়নি তার মধ্যে ২০০ পরিদর্শক নিয়োগ, ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দেওয়া ও ১৯টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত করা।

শর্তানুসারে পিএসসির মাধ্যমে দুই বছররে মধ্যে  ২০০ ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মোতাবেক এপ্রিল-মের মধ্যে এই নিয়োগ দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ৩১ তম বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫ হাজার ৪৮৯ জন উত্তীর্ণ হলেও ২ হাজার ৭২ জন ক্যাডার পান।

আর ৩২ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ২ হাজার ৫৯২ জনের মধ্যে এক হাজার ৬৮০ জন এবং ৩৩তম বিসিএসে ১৫ হাজার ৯৫১ জন উত্তীর্ণ হলেও ৮ হাজার ৫২৯ জন বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।

এই হিসাবে গত তিনটি বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৪ হাজার ৩২ জন উত্তীর্ণ হলেও ১২ হাজার ২৮১ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারের জন্য সুপারিশ করা হয়।

অর্থাৎ, ১১ হাজার ৭৫২ জন প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারে চাকরি পাওয়ার যোগ্য। অবশ্য এদের মধ্য থেকে কয়েক দফায়  কয়েকশ চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কারখানা পরিদর্শক হিসেবে ক্যাডার বঞ্চিতদের নিয়োগ দিতে খুব শিগগিরই নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে বলে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।