মার্চ থেকে পুরোপুরি শুরু হচ্ছে ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন

0
28
পোশাক কারখানা
ছবি: ফাইল ছবি

পোশাক কারখানাপোশাক শিল্পে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন থমকে রয়েছে। কয়েক মাস আগে চুড়ান্তভাবে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও  রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে চুড়ান্তভাবে এই কার্যক্রম ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার্স সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যালায়েন্স) ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড)কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠন দুইটির বাংলাদেশে ২৩০০ কারখানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানা ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা রয়েছে। এই জোট দুটির অর্ন্তভুক্ত কোম্পানিগুলো এই সব কারখানা থেকে তাদের পোশাক ক্রয় করে।

এদিকে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের অধীনে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই কারখানাগুলো পরিদর্শন করছে। পোশাক ক্রয় করে এমন কারখানা থেকে শুধুমাত্র অ্যাকর্ড এই পযর্ন্ত ৭ কারখানা পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ সূত্র।

তবে আলোচ্য সময়ে অ্যালায়েন্স কোনো কারখানা পরিদর্শন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এজন্য অবশ্য সংগঠনটি দেশে কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ি করেছে।

সংগঠনটির মতে এতে করে পোশাক কারখানার কম্প্লায়েন্স ইস্যূ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ কিছুটা কাটলেও নতুনভাবে শুরু করতে সময় লাগছে। সংগঠনটির আশা   মার্চ থেকে এই কার্যক্রম চুড়ান্তভাবে শুরু হবে।

বিজিএমইএ আরও বলছে, অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানা চুড়ান্তভাবে পরিদর্শন কাজ শেষ হবে চলতি বছরের জুলাই মাসে। আর অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা চলতি বছরের শেষ নাগাদ সমাপ্ত হবে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে জানান, পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কাজ শুরু করলেও রাজনৈতিক সংকট তাদের কার্যক্রমকে পিছিয়ে দিয়েছে। কয়েক মাসের হরতাল-অবরোধে পরিদর্শন কাজ বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, কম্প্লায়েন্স ইস্যূ নিয়ে বিজিএমইএ দেড় হাজার কারখানার ৩৬ হাজার কর্মকর্তা ও শ্রমিককে অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পণা নিয়েছে। তাতে এরই মধ্যে ১৫ হাজার শ্রমিক এই প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অ্যালায়েন্সের ৬০০ কারখানা ১মার্চ থেকে পরিদর্শন শুরু করবে যা শেষ হবে চলতি বছরের জুলাই মাসে। আর অ্যাকর্ডের ১৭০০ কারখানা ১৫ মার্চ থেকে শুরু হবে যা চলবে চলতি বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে না রাখার ব্যাপারে বিজিএমইএ’র বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বিজিএমইএ অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়নি। বিজিএমইএকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভাইজারি কমিটিতে। তাই অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে বিজিএমইএকে রাখার ব্যাপারে আমরা আবদেন করেছি। আমরা আশা করছি, কারখানাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিদর্শনের স্বার্থে বিজিএমইএকে অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তাছাড়া পরিদর্শন করা কারখানাগুলোর ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য করা হয়েছে রিভিও কমিটি। তাতে আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বুয়েট, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও বিজিএমইএর সদস্য থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকে অ্যালায়েন্স ছয় মাসে ২২২টি কারখানা পরিদর্শন করেছে বলে গত ৩০ জানুয়ারি নিজস্ব ওয়েবসাইডে জানিয়েছে ক্রেতা জোটটি।