জিএসপি ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই থাকবে ইইউ
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

জিএসপি ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই থাকবে ইইউ

EU-logoঅগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি ইস্যুতে এখনই বাংলাদেশকে ছেড়ে যাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বরং বাংলাদেশের পাশেই থাকবে তারা। আর ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশকে আগামি দিনেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ইউরোপের ২৮ টি দেশের এ ফোরাম। তবে এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তির দৃশ্যমান অগ্রগতিও দেখতে চায়।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মোহাম্মদ আলীকে দেওয়া এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য কমিশনার কারেল দ্য গুচে। চিঠিতে তিনি চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রশংসাও করেছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অথচ একই দিন দুপুরে তিনি বাংলাদেশকে জিএসপি ইস্যুতে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন,  ইইউতে অগ্রাধিকারমূলক বা শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই শ্রম অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যর্থ হলে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি বাতিলের মত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। ডব্লিউটিও’র মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন উপলক্ষে গুচে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে ইইউ গত জুলাইয়ে জেনেভায় বাংলাদেশ, ইইউ ও আইএলও’র মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতির জন্য সরকারের প্রশংসা করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, কারখানা পরিদর্শনের জন্য নতুন পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুসহ কিছু ব্যবস্থাকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।
সংস্থার চিঠিতে এ ইস্যুতে বাংলাদেশকে আরও সহায়তা যুগিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য যে সহায়তা দিয়েছে, তা আগামি দিনেও অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা।

তবে বিভিন্ন বিষয়ের অগ্রগতিকে আরও দৃশ্যমান করার তাগিদ দিয়েছেন ইইউ বাণিজ্য কমিশনার কারেল দ্য গুচে। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, আরও পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি প্রতিশ্রতি দিয়েছেন, কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বাড়ানোর ইস্যুতে তারা অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বাংলাদেশের পাশেই থাকবেন।

উল্লেখ, তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ড ও রানা প্লাজা ধসে অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ইস্যুটি আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়টিকে অজুহাত বানিয়ে গত জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি বাতিল করেছে।  এর পরপরই আশংকা দেখা দেয়, ইউরোপিয় ইউনিয়নও জিএসপি বাতিল করতে পারে। এমন অবস্থায় জুলাইয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইইউ ও আইএলওর সঙ্গে কারখানার পরিবেশ ও অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের চুক্তি হয়।

উল্লেখ, ইইউ অঞ্চল বাংলাদেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। বর্তমানে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ ভাগ আসে এ অঞ্চল থেকে। দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য ইবিএ  (অস্ত্র ব্যাতিত সব কিছু) সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। এ সুবিধা না পেলে অন্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশি পণ্যকেও সাড়ে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হতো। এটি  আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ব্যাহত করতো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ