রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

0
89
rabi
রাবিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কিছু খন্ডচিত্র
rabi
রাবিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের খন্ডচিত্র

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ, রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের দাবিতে নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম, সিপিবি, বাসদের উদ্যোগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন মাহমুদুর রহমান মান্না, মফিজুল ইসলাম কামাল, সৈয়দ জাফর আহমদ, খালেকুজ্জামান, আওম শফিকুল্লাহ, আবু বকর সিদ্দিক, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ, রাকসু’র সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্নাসহ আরও অনেকে। মানববন্ধন পরিচালনা করেন গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ।

বক্তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান। পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র হাতে হামলা চালাবার পর যেভাবে শিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে তা ছাত্র আন্দোলন তথা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য অশনি সংকেত বলে তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা আরো বলেন, রাবিতে শিক্ষার্থীদের বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে এমন উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শাসক দল ও সরকারের অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট চেহারাই তুলে ধরেছে। ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর গঠিত সরকার যেভাবে দমন-পীড়ন শুরু করেছে তা দেশকে আরও ভয়াবহ অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় বিকল্প গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ওপর সকল বক্তাই জোর দেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না শাসকদলের সাধারণ সম্পাদকের উক্তি উল্লেখ করে বলেন, তখন শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের মুখে বলা হয়েছিল ছাত্রলীগের মধ্যে শিবির ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থায় নিজ দলকে ঠিক না করে দেশকে ঠিক করার নামে যা করা হচ্ছে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুন্ঠিতকারী বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইছে। অথচ গণতন্ত্রের লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। এটা সবার জানা কথা। রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রশ্ন আছে কিন্তু নীতির ওপরে কিছু নেই। তাই বিগত সংসদ নির্বাচন দুর্নীতিকে কীভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে সেটা বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, এম.পি, চীফ হুইপের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আমরা চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দুঃশাসন চালাচ্ছে। আমরা কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই গড়ে তুলছি। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে, জনগণের জীবন-জীবিকার দাবিতে, গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময়। বড় দুই দল ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশকে যেভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমরা তার বিকল্প ধারা গড়ে তুলতে সচেষ্ট। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণের মুক্তির লড়াইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে এখানে সমবেত হয়েছি বলেও তিনি ঘোষণা করেন। (বিজ্ঞপ্তি)

সাকি/