শিল্পখাতে ঋণ বিতরণ ও খেলাপি বেড়েছে

0
94
Taka
টাকা- ফাইল ছবি

Taka২০১৩ সালে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ অনেক বেড়েছে সেই সাথে বেড়েছে ঋণ খেলাপির পরিমাণও। এ সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এ ঋণের বিপরীতে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার কারণে গত বছর ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্নক মন্দাভাব দেখা দেয়। তাছাড়া বছরের শেষ সময়ে টানা হরতাল ও অবরোধে দেশের অর্থনীতি কার্যত স্তিমিত হয়ে পড়ে। এ কারণে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ভাল ব্যবসা না করতে পারায় খেলাপির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামিতে এ সমস্য থাকবে না বলে তারা আশা করেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ঋণের প্রবৃদ্ধির যে ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ভাল দিক। ঋণ বিতরণ বাড়লে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে তিনি জানান।

দেশের এ অস্থিরতার মধ্যে ব্যবসায়ীরা ভাল ব্যবসা করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাল ব্যবসা না করতে পারলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। এ কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। তবে দেশের মধ্যে বর্তমানে যে স্থিতিশীলতা এসেছে এটা ধরে রাখতে পারলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আর বানিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন,  বিদায়ী বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের লাগাম  বেঁধে  দেয়। ফলে ঋণ বিতরণ খুব একটা বাড়েনি। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপের মুখে এ খাতে ঋণ বিতরণে  অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এ কারণে খেলাপির পরিমাণও অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানা তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শিল্প ঋণ বিতরণ হয়েছে ৮০ হাজার ৩৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।  এদিকে গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে একই সময় শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমান ছিল ৭১ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ ।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে বানিজ্যিক ব্যাংকসহ ব্যাংক বহিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধন খাতে ঋণ দিয়েছে ৫৮ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা , যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।

আলোচ্য সময়ে মেয়াদী ঋণ দিয়েছে ২১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা।  যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ২১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে বছর ব্যবধানে মেয়াদী ঋণ কমেছে এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে শিল্প ঋণ খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময় শেষে ছিল ১০ হাজার ৫২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে শিল্প খাতে ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে চলতি মূলধন খাতে খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।

তবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ছয় মাস শেষে মেয়াদী ঋণের বিপরীতে শ্রেনীকৃত ঋণ কমেছে পাঁচ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে এ খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৯২১ কোটি টাকা। যা ১২-১৩ অর্থবছরের এ সময়ে ছিল ৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে,শিল্প ঋণ খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে শিল্প ঋণ খাতে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণ স্থিতি  বেশি হয়েছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এদিকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের  ডিসেম্বর পর্যন্ত বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণের বিপরীতে অর্থ আদায় হয়েছে ৭৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময় শেষে ছিল ৫৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় বেড়েছে ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো: মাছুম পাটোয়ারী অর্থসূচককে বলেন, স্থবির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যেও চলতি বছরে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণের ইতিবাচক ধারা অব্যহত আছে। সার্বিকভাকে ব্যাংকগুলোর শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়ে গেলেও কমেছে খাত অনুযায়ী বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ।  ব্যাংক ও আর্থিক  প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি অব্যহত আছে বলে তিনি জানান। এর ফলে চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

এসএই/