রাবি বন্ধ থাকলেও সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস-পরীক্ষা চলছে

0
30
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলেও সান্ধ্যকোর্সের ক্লাস ও পরীক্ষা ঠিকই চলছে। বন্ধ ক্যাম্পাসে সান্ধ্যকোর্সের শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শিক্ষা বাণিজ্যিকিকরণ মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ করেছে।

খোজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায় অনুষদের অধীনে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সান্ধ্যকোর্সের চারটি সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছে। ওই বিভাগের  ২০১৪ বর্ষের জানুয়ারি-জুন ১২ তম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে সোমবার থেকে। বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আবু সামা সরকার বলেন-নতুন ব্যাচের মৌখিক পরীক্ষা সোমবার সকাল ১০ টা থেকে শুরু হবে। মৌখিক পরীক্ষায় যারা টিকবে তারা সেদিনই ভর্তি হতে পারবেন। ওই ব্যাচের উদ্বোধনী ক্লাস শুরু হবে আগামি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে।  ফাইনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগে নতুন ১২ তম ব্যাচের গত ৩১ জানুয়ারি উদ্বোধনী ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত এখন নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে।

আইন অনূষদের সান্ধ্যকালীন  দুই বছর মেয়াদী এলএলএম কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম চলছে। ভর্তির শেষ দিন আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলে জানান ওই অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার আখতারুজ্জামান। অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে সাতটি বিভাগে চালুকৃত সান্ধ্যকোর্সের ভর্তি কার্যক্রম চলছে। তবে ওই অনুষদের অধীনে ক্লাস কবে থেকে শুরু হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানান অনুষদের ডিন প্রফেসর আনসার উদ্দিন।

হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র শীল বলেন, এটা নিয়মিত কোন কোর্স নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে তাই ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বকসী বলেন-ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোন  ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সেখানে সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস পরীক্ষা ঠিকই চলছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিকরণ মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ক্যাম্পাস দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানউদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকলে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যায় না। কিন্তু এছাড়া প্রশাসনের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকালেও সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্লাস পরীক্ষা চলছে এ বিষয়ে তিনি বলেন- আমরাতো চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা থাকুক। সকলের ক্লাস চলুক। কিন্তু শিক্ষার্থীরাই যদি আন্দোলন করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে চায় আমরা কি করতে পারি। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়াসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর উপর  পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়। সেখানে অস্ত্র উচিঁয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ও গুলি ছুড়তে দেখা  ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকে। দফা দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত হয় শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী। ওই ঘটনার পর রাতেই সিন্ডিকেটের জরুরী বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আবাসিক হলগুলো ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যায়।