মেলায় বিদেশি স্টলগুলোতে বিক্রি বেশি তবু অতৃপ্তি মালিকপক্ষের

0
35
Foreign-Stall-At-Trade Fair

Foreign-Stall-At-Trade Fairবাণিজ্য মেলায় বেচা-বিক্রি বেশি তবু বিদেশি স্টলগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে ফুঠে উঠছে অতৃপ্তির ছাপ। এবারের মেলায় দেশীয় প্যাভিলিয়নের চেয়ে বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল অনেক বেশি। দেখতে আকর্ষণীয়, দামে সাশ্রয়ী ও দেশীয় পণ্য থেকে ভিন্ন আঙ্গিকের কারণেই এসব প্যাভিলিয়নে ভীড় বেশি ছিল। বিশেষ করে মেয়েদের গহনা ও প্রসাধনী জাতীয় পণ্যে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

বিদেশি স্টলগুলোতে বিশেষ করে কোরিয়ান, থাইল্যান্ড ও হংকংয়ের স্টলগুলোতে গহণা কেনার জন্য নারী ক্রেতাগণ ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিদিন। দেশীয় গহণার স্টল থাকলেও বিদেশি গহণাগুলো আসল ও খাঁটি এমন আত্মবিশ্বাসই মূলত ক্রেতাদের আকর্ষণের মূল কারণ।

তবে, এতে বেশ খুশি হলেও গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম বলে জানায় বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর কর্মকর্তারা।

দীর্ঘ এক মাসের মধ্যে দেখা গেছে, গহণা  জাতীয় পণ্যগুলো বিদেশি স্টলগুলোতে ক্রেতার ভিড় ছিল বেশি।

মেলায় আসা দর্শনার্থী রীমা হোসেন অর্থসূচককে বলেন, দেশীয় গহণার চেয়ে বিদেশি গহণাগুলো টেকসই ও মজবুত। তাই বিদেশেরগুলো একটু বেশি পছন্দ করি।

ফার্মগেইট থেকে আসা গৃহিনী শিবলি জানান, বিদেশি গহণাগুলো দেখতে আকর্ষনীয় ও টেকসই। তাই এগুলো বেশি কিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় ভারতীয় স্টলের ইনচার্জ আতিফ হোসেনের সাথে। জুতা ও কাশ্মিরী শাল বিক্রয় করেন তিনি।  এসেছেন ভারতের জুম্মু কাশ্মির থেকে। বাংলায় কথা বলতে না পারলেও ইংরেজিতে বেশ ভালভাবেই বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

আতিফ হোসেন অর্থসূচককে জানান, বিক্রি মোটামুটি ভাল তবে গত বছরের চেয়ে একটু কম।

তবে যেটুকু হচ্ছে তাতেই আলহামদুলিল্লাহ বলে সন্তোশ প্রকাশ করেন তিনি।

কথা হয় কোরিয়ান প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ মি. তাংয়ের সাথে। তিনি জুয়েলারী দোকান নিয়ে বসছেন মেলায়। মেয়েদের হরেক রকমের পাথরের গহণার পাশাপাশি ছেলেদের রিং, বেসলেটসহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে তার স্টলে।

বাংলা ও ইংরেজি মিশ্রণে অর্থসূচককে মি. তাং বলেন, বেচা-বিক্রি ভাল। তবে গত বছর বেশ ভাল হয়েছে। এ বছর একটু কম।

এ বছর কম কেন প্রশ্ন করলে তিনি হাসলেন, আর বললেন আপনি তো সাংবাদিক ভাল জানার কথা। ওকে বাই।

এ বিষয় আরও কথা হয় পাকিস্তানি স্টলের ইউসুফ সোহেলের সাথে। তিনি বেশ ভাল ইংরেজিতে কথা বললেন। বেচা-বিক্রি সম্পর্কে অর্থসূচককে তিনি বলেন, বিক্রি ভালো। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়।

এর কারণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থতিশীলতাকে দায়ী করলেন। তবে বাংলাদেশের ভিসা পাইতে তাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দেশীয় গহণার দোকানগুলোর কর্মকর্তারা বলেন, দেশীয় জিনিসগুলো মানসম্মত ও আকর্ষনীয় হলেও ক্রেতারা এগুলো কিনতে চায় না। এর কারণ হিসেবে তারা বিদেশি জিনিসের প্রতি বাঙ্গালিদের অন্ধ বিশ্বাসকেই দায়ী করলেন।

জেইউ