ব্যান্ডউইথ রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত

0
96

Seven_Sister_BSCCLদীর্ঘ এক বছর ঝুঁলিয়ে রাখার পর শেষ পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হবে। রোববার অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করে অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যান্ডউইথ সামর্থ ২৫০ গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ড (জিবিপিএস)। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের রয়েছে ২০০ গিগাবাইট। দেশে বর্তমানে মাত্র ৪২ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয়।বাকী ২০৮ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। তবে ২০২১ সাল নাগাদ ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেড়ে ২২০ জিবিপিএস হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে। তাই ৫০ গিগাবাইটের মত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। আর এ পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রপ্তানি থেকে আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি  টাকা।

উল্লেখ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশি ভারত বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে চাচ্ছে। সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত দেশটির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাতটি রাজ্যে ব্যান্ডউইথ ঘাটতি রয়েছে। রাজ্যগুলো হচ্ছে-আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর। তারা বাংলাদেশের আখাউড়া অংশ দিয়ে ত্রিপুরা এবং বাংলাবান্ধা অংশ দিয়ে দার্জিলিং হয়ে ব্যান্ডউইথ নিতে চায়। অনেকটা দূর্গম ভোগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে ব্যান্ডউইথ নিয়ে যাওয়া বেশ দুরুহ। তাই বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথে সহজ সমাধান খুঁজছে দেশটি।

জানা গেছে, গত বছর ভারত সরকার অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রস্তাব দেয়। এর সম্ভাব্যতা ও কারিগরি দিক পর্যালোচনার লক্ষ্যে ৩১ জুলাই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে একটি টেকনিক্যাল প্রতিনিধ দল বাংলাদেশ সফর করে। প্রতিনিধি দলটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট  রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিষয়টি বেশিদূর এগোয়নি।

বৈঠক শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশে যথেষ্ট ব্যান্ডউইথ উদ্বৃত্ত রয়েছে। তাছাড়া দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। তখন ব্যান্ডউইথ আরও বেড়ে যাবে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করাই দেশের জন্য লাভজনক।