তুলা ক্রয়ে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনের দাবি

0
88

cottonতুলা ক্রয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মিলের ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট পারফরমেন্স ফরম (ইএক্সপি ফরম), বিল অব এক্সপোর্ট কিংবা শিপিং বিল জনিত জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। এছাড়া ৫ শতাংশ সরকারি বিশেষ সহায়তায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন(বিটিএমএ)। সংগঠনটি এসময় স্থানীয় বাণিজ্যে ঋণপত্রের (এলসি) উৎসে কর কর্তন না করারও দাবি জানিয়েছে তারা।

রোববার সকালে বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর নিকটে এই দাবি পেশ করেন।

বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন স্বাক্ষরিত ওই দাবিতে বলা হয়, সমিতির সদস্য কারখানাগুলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও তার রিটেনশনসহ দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

টেক্সটাইলখাতে এইসব কারখানা থাকায় তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি আশানুরুপ হচ্ছে বলেও বলা হয় ও দাবিতে।

আর এমন ভূমিকা পালনের কারণে টেক্সটাইল খাতটি আমদানিতে পরিপূরক শিল্প হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিটিএমইএ জানায়, স্পিনিং মিলগুলো আমদানি করা তুলা থেকে সূতা উৎপাদন করে ব্যাক টু ব্যাক এলিসির মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছে। আর এই সরবরাহ কালে কারখানাগুলো মূসক আইন অনুসারে চালানপত্র ব্যবহার করছে।

তবে এই ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট পারফরমেন্স ফরম(ইএক্সপি ফরম)বিল অব এক্সপোর্ট কিংবা শিপিং বিল ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। ফলে কারখানাগুলোর পক্ষে এই সার্কুলার প্রতিপালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান বিটিএমইএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন।

তাছাড়া স্পিনিং মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোশাক রপ্তানিকারকদের সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকায় এই সর্ম্পকিত ডিসকাউন্টস সমুহ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়না বলে জানান তিনি। আর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নগদ সহায়তার অবদানপত্রে ওই ডিসকাউন্টস জমা দানও সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় ডিসকাউন্টসমুহ জমা দেবার আগে বিশেষ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলামিন বলেন, বিটিএমএ’র কারখানাগুলো দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় সূতার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে। সূতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল কাঁচা তুলা এখন সম্পুর্ণভাবেই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে করে লোকাল এলসি’র মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তুলা কিনতে হচ্ছে।

আর তাতে খরচও বেশি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। লোকাল এলসি’র মাধ্যমে কেনা তুলায় উৎসে আয়কর কর্তন টেক্সটাইল শিল্পে সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাই তিনি স্থানীয়ভাবে দেশের যে কোনো এলাকায় অবস্থিত কারখানা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা লোকাল এলসি’র মাধ্যমে তুলা কেনার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত উৎসে কর কর্তন হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মালিকদের এই দাবির বিপরীতে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।সংগঠন সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।