গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাত দফা দাবি

0
87
রানা প্লাজা বিক্ষোব

রানা প্লাজা বিক্ষোবরানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সাত দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি। তাতে সংগঠনটি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, কবর বুঝিয়ে দেওয়া, হাড়-কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করা হয়।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের পর শ্রমন্ত্রণালয়ে এই স্মারকলিপি দেন সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে নিহত, নিখোঁজ, আহতসহ সর্বমোট শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা ও শ্রমিকদের একজীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা, হাড় কঙ্কাল শনাক্ত করা।

ডিএনএ শনাক্তকারীদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া, নিখোঁজদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নিহত ঘোষণা করা, জমি ও অনুদানের নামে নানাভাবে হয়রানিকারীদের গ্রেপ্তার করাও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করা। তাছাড়া দোষীদের জামিন না দিয়ে বিচারও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় স্মারকলিপির মধ্যে।

এর আগে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহত, নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা। নিহত হৃদয়ের মা আনোয়ারা বেগম আর্তনাদ করে বলেন, এতোদিন পেরুলেও আমি আমার সন্তানের লাশের সন্ধান পাইনি। এতোদিন খুঁজেছি তবে কেউ কোনো খোঁজ দিতে পারেনি আমাকে। রানা প্লাজার ধ্বংস স্তুপ সরানোর সময়ে তার ভাঙ্গা মোবাইলের অংশটি পেলেও তাকে আর পেলাম না।

নিহত আফজালের বাবা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তবে কোনো সন্ধান মিলছে না তার সন্তানের।

আর নিহত হোসনেয়ারা বেগমের স্বামী জসীম দুই মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস-(৫)ও ফারজানা আক্তার(৩) কে নিয়ে। ঘটনার এতোদিন পার হলেও কোনো প্রকার সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

আর একই ভবনে কাজ করতে মেহেরপুরের মরিয়মও তার স্বামী সওদাদ হোসেন। নিজে বাঁচতে পারলেও স্বামীর খোঁজ এখনও মেলেনি। ১৬ হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে জানান তিনি।

সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, এই ঘটনা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। আর এতে সরকার তালবাহনা করলে শ্রমিকসহ দেশের মানুষের আন্দোলনের মুখে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সমাবেশের সভাপতি তাসলিমা আক্তার লীমা বলেন, রানা প্লাজা ধসের প্লাজা ধসের ১০ মাস অতিবাহিত হলেও শ্রমিকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। অনেক ডিএনএ সনাক্তকারীরা কবর বুঝিয়ে পায়নি। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ, দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের হাইকোর্টে পাঠানো নিখোঁজ তালিকায় ৩৭৯ জন, সেনাবাহিনীর তালিকায় ২৬১ জন উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তালিকানুযায়ী এখনও ১৫৯ জনের ডিএনএ মিলেনি। তবে জুরাইনে অসনাক্ত কবরে সংখ্যা ২৯১ জনের। ডিএনএ ফলাফল মিলছে ১৫৭ জনের।