ব্যাংকের মূলধন বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ

0
75
green banking
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান

governor_bb, ব্যাংকের মূলধনপাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ১৪৫ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর আতিউর রহমান জানান, গেল পাঁচ বছরে  ব্যাংকগুলোর মূলধন ৩৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের  মূলধন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে সঞ্চয় ও ঋণের পরিমাণও।

গভর্ণের দেওয়া তথ্যমতে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে। আর ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১১৬ শতাংশ।

গত পাঁচ বছরে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকায়। এ সময় ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে নতুন ব্যাংক চালু , হিসাব সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন বেড়েছে। এ সময়ে আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাব সংখ্যা ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ১২ লাখ হয়েছে। এর মধ্যে দশ টাকায় খোলা কৃষক ও হতদরিদ্রদের ১ কোটি ৩৩ লাখ হিসাব রয়েছে।

গভর্ণর জানান, বৈশ্বিক মন্দা ও সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সময়োপযোগী মুদ্রানীতি, ঋণনীতি এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বান্ধব নীতি-পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর এ কারণেই  বৈরী পরিস্থিতিতেও অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক ইতিবাচক ধারায় এগুনোসহ দেশের মোট পুঁজির পরিমাণও বেড়েছে।

গভর্নর আজ রোববার নবনিযুক্ত সহকারী পরিচালকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স ২০১৩ এর ২য় ব্যাচের সমাপনী এবং ২০১৪ এর প্রথম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান।

মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর তার লিখিত বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতির আকার ও আর্থিক খাতের গভীরতা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অভিযান আর্থিক গভীরতাকে দ্রুত বৃদ্ধি করেছে। এই সময়ে ব্যাংকের সংখ্যা ৪৮টি থেকে বেড়ে ৫৬টি এবং ব্যাংক শাখার সংখ্যা ৬৮৮৬টি থেকে বেড়ে ৮৫৬০টি হয়েছে।

গভর্নর বলেন, আমাদের কৃষি, এসএমই ও ব্যাংকিং খাত ভালো করার কারণেই দেশের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৪,৪৬৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্যে লক্ষ্যমাত্রা ১৪,৫৯৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে এসএমই ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ৭৪,১৮৭ কোটি টাকার বিপরীতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৬২,৪৭৩ কোটি টাকা। চলতি বছরে এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাংকগুলো নিজেরাই গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৮,৭৫৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির মুখ্য সূচকগুলো গত পাঁচ বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে অর্জিত হয়েছে। গড় রেমিট্যান্স আয় ৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৫ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ব্যয় ৫১ শতাংশ বেড়ে গড়ে হয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭৩ শতাংশ, গড় আয় হয়েছে ২২.৬ বিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বাজারভিত্তিক তদারকির কারণে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এসএন্ডপি ও মুডি’স এর রেটিংয়ে চার বছর ধরে সন্তোষজনক ঋণমান ধরে রাখতে পেরেছে বলে  স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে।

গভর্নর এসময় প্রশিক্ষনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে চাকরির কঠিন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি পরিপাটি ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে তোমরা যোগদান করেছো। যেখানেই কাজ করবে সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। বিদ্যমান কর্মীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের উজ্জল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্যে তোমরা মেধা, প্রজ্ঞা ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের সর্বোচ্চটাই দিবে বলে আমি আশা করছি।