রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা নির্বাচনে গণসংযোগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

0
45
rajshahi

rajshahiরাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা মাত্রই গণসংযোগে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আর এসব প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরও নাম শোনা যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় ৮৩টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়িও রয়েছে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৫ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাই ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি। আর নির্বাচন হবে ১৫ মার্চ।

গত মঙ্গলবার গোদাগাড়ি আফজি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে গোদাগাড়ি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগের সাধারণ-সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান আসাদ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাঁকনহাট পৌরসভার কাউন্সিলর হোসনে আরাকে দলীয় সমর্থিত একক প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীসহ গোদাগাড়ির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী। বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে একক প্রার্থী হিসেবে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একেএম আতাউর রহমান খান। বর্ধিত সভায় না গিয়ে নিজকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছে জেলা আ.লীগের সদস্য ও পৌর আ.লীগের সাবেক সাধারণ-সম্পাদক আবদুল মালেক।

গত শুক্রবার ডাইংপাড়া দলীয় কার্যালয় মাঠে এক বর্ধিত সভায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক অনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সমর্থিত একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসাহাক আলী ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা দলের সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা ডলির নাম ঘোষণা করেন। এ সময় বিএনপির সাংগঠিক-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক কামরুল মনিরসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির আরেক অংশের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলীর নাম ঘোষণা করেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির নেতা সাজেদুল হক মার্কনী বলেন, গত নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে হযরত আলী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এবারেও নির্বাচনে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রার্থী দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে হযরত আলী দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

উপজেলা পরিষদের তফসিল ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগে জামায়াতের সুরা সদস্যদের সভায় চেয়ারম্যান পদে রাজশাহী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক কারুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক ওবাইদুল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে জোটগতভাবে উপজেলা নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে পৌর জামায়াতের এক নেতা জানান। এ নিয়ে জামায়াতের সুরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গোদাগাড়ি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন।

এদিকে, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে গোদাগাড়ি পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা মহিলা আ.লীগের সভাপতি সুফিয়া খাতুন মিলি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাল উদ্দীনের ছেলে মাহাফিজুর রহমান সুমন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, সুলতানগঞ্জ গ্রামের সেরাজুল ইসলাম প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন।