চরম মজুরি বৈষম্যও বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসী নারীরা মাঠে কাজ করছে

0
128

Farmerরাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসী নারীরা চরম মজুরী বৈষম্যের মধ্যে কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করলেও মজুরী পাচ্ছে পুরুষের অর্ধেক। কাজ হারানোর ভয়ে শ্রমিকেরা প্রতিবাদ করার সাহস পায়না তারা।

জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট, নওগাঁর নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর, সাপাহার, পোরশাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ আদিবাসীর বসবাস করছেন।

আদিবাসীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে এ অঞ্চলে ৩৫ হাজার আদিবাসী শ্রমিক কৃষি জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে সংসারের থালাবাসন পরিষ্কার ও সকাল-দুপুরের খাবার তৈরির কাজ সেরেই নারী শ্রমিকেরা দল বেঁধে নির্ধারিত জমিতে কাজের জন্য ছুটে চলেন।

গোদাগাড়ীর চকপাড়া গ্রামের আদিবাসী নারী শ্রমিক লক্ষী রানী রায় (৩০) বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী শ্রমিক হিসেবে যা মজুরি পায় তা দিয়ে সংসারের খরচ মিটিয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছেন। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে সমান কাজ করায় জমির মালিক তাদের প্রশংসা করলেও মজুরি দেওয়ার সময় পুরুষদের চেয়ে তাদেরকে কম টাকা দেয়। তবে কাজ হারানোর ভয়ে ভয়ে মুখ খুলে কিছুই বলতে পারেন না। পুরুষ শ্রমিকদেরকে ২০০ টাকা দেয়া হলেও নারী শ্রমিকদেরকে মজুরি দেয়া হয় ১৫০ টাকা।

বটতলী গ্রামের নারী শ্রমিক বাসন্তী সরেন (২৫) বলেন, ছয় সদস্যের পরিবারে সংসার খরচে ব্যয় হয় তার মজুরির টাকা। সুন্দরপুরের রিনা মুর্মু (৩৫) বলেন, পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্যের আয় দিয়ে সংসার চলে না। এজন্য পুরুষদের পাশাপাশি আদিবাসী নারীরাও কৃষি জমিতে কাজ করছেন।

আদিবাসী সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গণেশ মার্ডি বলেন, এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীরা ভূমিহীন। অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীরা জমিতে ধান লাগানো, কাটামাড়াই ও আগাছা পরিষ্কারের কাজে পারদর্শী হওয়ায় কৃষি কাজ করতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু এ অঞ্চলের কৃষি জমির মালিকেরা সবসময় নারী শ্রমিকদেরকে ঠকিয়েছে আসছে। অন্য কোনো কাজ না পেয়েই মজুরি বৈষম্যের শিকার হওয়ার পরও আদিবাসী নারী শ্রমিকেরা কৃষি জমিতে কাজ করতে বাধ্য হয়।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার ড. সাইফুল আলম বলেন, কৃষি অধিদফতরের ব্যবস্থাপনায় কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে নারীদেরকে বিভিন্ন ফসল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি মাঠ স্কুলে ২৫ জন পুরুষের সঙ্গে ২৫ জন নারী প্রশিক্ষণ নেয়।  কৃষি অফিসের অধীনে প্রায় এক হাজার নারীকে ফসল চাষের ওপরে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও আদিবাসী নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ হয় নি। তবে আদিবাসী নারীরা তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকেই কৃষি কাজের ওপর যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল তা অব্যাহত রেখেছে।