রপ্তানি নয়, এবারের মেলা আমদানি নির্ভর

0
49
Trade-Fair_07.02.14--2

Trade-Fair_07.02.14--2এবারের ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় যেমন বেচা-বিক্রি কম তেমনি অন্য যেকোনো বারের চেয়ে রপ্তানি আদেশও ছিল অনেক কম। বিদেশি পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। তাই এ বছরের মেলা রপ্তানি নির্ভর না হয়ে বরং আমদানি নির্ভরই হয়ে গেল।

মেলা শেষ হওয়ার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভালো রপ্তানির মুখ দেখেনি দেশি পণ্যের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নিরব চাঁদাবাজী। এ নিয়ে মেলায় অংশ গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ। তবে রপ্তানি আদেশ কম হওয়ার পেছনে তারা দেশের ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই দায়ী করলেন।

মেলায় অংশ গ্রহণকারী বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ও স্টল মালিক-কর্মকর্তাদের সাথে গত এক সপ্তাহ ধরে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, জুপ ডাইভারসিফিকেশন শিল্প ,কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ইস্টাইনলেস স্টিল কোম্পানি (ম্যাক্স), লেদার শিল্পসহ বিভিন্ন দেশি পণ্যের প্যাভিলিয়ন ঘুরে এসব তথ্য উঠে আসছে।

ব্যবসায়ীদের অনেকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক এই মেলায় রপ্তানিতো দূরের কথা আশানুরুপ বিক্রির মুখও দেখছে না তারা।

তবে রপ্তানির আদেশ কম এ বিষয়ে নিশ্চিত করলেও চাঁদাবাজীর কথা উল্লেখ না করতে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন অনেক ব্যবসায়ী। এমনকি দোকানের নাম উল্লেখ না করেও লিখতে বলেন। কারণ হিসেবে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিকে ঈঙ্গিত করলেন তারা।

রপ্তানি কম- এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি বায়াররা শঙ্কায় ছিলেন। সেজন্য তারা আসেননি। তাছাড়া দেশি পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি। একই ধরনের বিদেশি পণ্য বেশি জাঁকজমক ও স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এরে ফলে বিদেশি পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেলায় অংশ গ্রহণ করা রংপুরের শতরঞ্জির ইনচার্জ আশেকুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি অর্থসূচককে বলেন, ‘আমরা  বিশ্বের মোট ৩৫টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে থাকি। প্রতিবছর মেলা থেকে বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা পণ্য রপ্তানির আদেশ দেয়।  কিন্তু এবছর মেলার ২৯তম দিনেও কোনো রপ্তানি আদেশ আসেনি।

তবে কিছু বিদেশি দর্শনার্থী আমাদের ভিজিটিং কার্ড ও অফিসের ঠিকানা নিয়ে গেছে। পরে হয়তো পণ্যের রপ্তানির আদেশ দিতে পারে।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের (বিসিক) ব্যবসায়ী শাকিল আহম্মেদ অর্থসূচককে জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে পাটের তৈরি কার্পেট, পাপোষ, টেবিল ক্লথ, সুতার তৈরি বিভিন্ন কার্পেট ও নানা ধরনের পোশাক নিয়ে মেলায় এসেছি। দেখতে দেখতে মেলা শেষ অথচ এখনও রপ্তানি আদেশের চেহারা দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে মানুষ বিদেশি পণ্যের ওপর তত বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। বিদেশে প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে কম সময়ে আধুনিক পণ্য উৎপাদন করতে পারে।  এতে তাদের ব্যয় ও সময় কম লাগে। কিন্ত বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র।

আরেক ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, বালাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের খুব চাহিদা থাকলেও খরচের কারণে ক্রেতারা আসছে না। তাছাড়া আমাদের মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে আধুনিক জিনিস দিচ্ছে চায় না কোম্পানি। তাই ক্রেতারা সে দিকে নজর দিচ্ছে।

হাজারীবাগ গ্রুপের সভাপতি মো. তাছনিম আলম শাহীন অর্থসূচককে বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত জাপান, কানাডা থেকে কিছু রপ্তানির আদেশ পেয়েছি। ইতালির এক বায়ারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এখনও ফাইনাল হয়নি।’

তবে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিগত ৪ বছর ধরে বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছি। প্রতিবারই মেলা থেকে পণ্য রপ্তানির একটা বড় ধরনের আদেশ পাই। তবে এবার গড়ে ৩০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ কম এসেছে।

রপ্তানি আদেশ কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন,  রাজনৈতিক অস্থিরতা মেলা শুরু হয়েছে দশ দিন পর। অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ব্যবসায়ী ও বায়াররা। এসব কারণে রপ্তানি আদেশ কম হতে পারে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুট ডাইভারসিফিকেশনের (জেডিপিসি) সাহায্যে মেলায় অংশ নিয়েছে বস্ত্র শিল্প কেন্দ্রিক স্টলগুলো। সেখানেও একই অবস্থা।

এ ব্যাপারে জেডিপিসির অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার নৃপেন্দ্র নাথ হীরা অর্থসূচককে বলেন, এবার জুট প্রোডাক্টের স্টলটা কিছুটা ভেতরের দিক হওয়ায় ক্রেতারা কম আসছে। তার মধ্যে বিদেশি ক্রেতার উপস্থিতি তো নাই বললে চলে। শুরু থেকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় রপ্তানি আদেশ কম হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ম্যানেজার মাজহারুল ইসলামও রপ্তানির আদেশ কম হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণকেই দায়ী করলেন।

এ ব্যাপারে ইপিবি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখনও মেলা শেষ হয়নি। পরে এ বিষয়ে সব জানতে পারবেন।

জেইউ/এআর