উদ্যোক্তা বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ, মনিটরিংয়ের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

0
50

এসএমইদীর্ঘদিন ধরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ না থাকার পরও গত এক বছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে উদ্যোক্তা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৮১৭ জন। আর এসব নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ বিতরণ করেছে ১৩ হাজার ১৯৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৩ সালের প্রথম থেকেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চিয়তা কাজ করেছে। ফলে তারা বড় শিল্প খাতে বিনিয়োগে উৎসাহী হয়নি। এ সময়ে দেশের অর্থনীতির একমাত্র চালিকা শক্তি ছিল এসএমই খাত। বড় বিনিয়োগে ভাটা পড়ায় ব্যাংকগুলোও এসএমই ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। আর এ সুযোগে এ খাতে ঋণ বিতরণ যেমন বেড়েছে তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। তবে এসব নতুন উদ্যোক্তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে জানান তারা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর অর্থসূচককে বলেন,  প্রতি বছরই কিছু নতুন উদ্যোক্তা আসে আবার কিছু উদোক্তা ঝরে যায়। সস্তায় ঋণ পাওয়া যায় বলে এসএমই ঋণ নিতে উদ্যোক্তারা বেশি আগ্রহী হন। ফলে ঋণ বিতরণ প্রতি বছরই বাড়ে। কিন্তু আমাদের দেখতে হবে যেসব উদ্যোক্তা এ ঋণ নিচ্ছেন তারা ঋণটাকে প্রকৃত খাতে কাজে লাগাচ্ছেন কী না। যদি এসব নতুন উদ্যোক্তা টিকে থাকে এবং তারা তাদের ঋণটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য সত্যিই ইতিবাচক।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত পক্ষে উদ্যোক্তারা  বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে যে ঋণ নেয় তার বেশিরভাগই সঠিক খাতে ব্যবহৃত হয় না। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে। সুতরাং এসএমই খাতে বিতরণকৃত এ ঋণকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে কঠোর মনিটরিং করতে হবে। তা নাহলে কাগজে কলমে উদ্যোক্তা বাড়লেও তার প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে না।

এসএমই খাতে নতুন ২ হাজার উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যে ২ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা করেছে তা খুবই ভালো দিক। যদি উদ্যোক্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আর্থিক সহায়তা করা হয় তাহলে তারা অনেক ভাল করবে বলে জানান তিনি।

কাগজে কলমে নারী উদ্যোক্তা বাড়লেও তার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যেহেতু সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ পায় তাই তারা কাগজে কলমে উদ্যোক্তা হলেও এ ঋণ ব্যবহার করে তাদের স্বামী অথবা পরিবারের কেউ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআইবিএম-এর এসএমই কনসালটেন্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন, বড় বড় শিল্প ঋণ বাদে প্রায় সব ঋণই এসএমই ঋণের মধ্যে পড়ে। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় বড় খাতে ঋণ না যাওয়ায় এসএমই খাতে ঋণ বেশি গেছে। বিতরণকৃত এ ঋণ যেন উদ্যোক্তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং খেলাপি না হয় এজন্য মনিটরিংয়ের ওপর বেশি জোর দিতে হবে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে এসএমই উদ্যোক্তা ছিল ২৬ হাজার ৬৮৭ জন। আর এসব উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০১৩ সাল শেষে উদ্যোক্তার সংখ্যা দাড়িয়েঁছে ৬৫ হাজার ৫০৪ জন। অর্থাৎ এক বছরে নতুন উদ্যোক্তা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৮১৭ জন। আর নতুন এসব উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর ২০১২ সালের তুলনায় নারী উদ্যোক্তারা ৫০ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই খাতে ৮৫ হাজার ৩২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ছোট শিল্প খাতে ৪৪ হাজার ৩১২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, উৎপাদনশীল খাতে ২৪ হাজার ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, সেবা খাতে ৪ হাজার ৬০২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, বাণিজ্য খাতে ৫৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এসএই/