বই মেলায় রকমারী আড্ডা

0
220
Boi-Mela--10

Boi-Mela--10কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর না থাকলেও সে আড্ডা  জমে উঠেছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর অমর একুশে বই মেলায়। ছোট থেকে বড় নানান জনের নানা আড্ডা সেখানে। আজ মেলায় শিশুপ্রহর চলায় সকাল থেকেই  লোকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গতকালের মতো আজ বিকেলে গেটে লম্বা সাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে মেলায় ঢুকতে হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

বাণিজ্য মেলায় কেউ মেতে উঠছেন বাংলা একাডেমির পুকুর পাড়ে আড্ডায়। পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে ও বসে কেউ ছবি তুলছে, কেউ গল্প করছে মনের মত করে। কেউ আবার তার প্রিয় বন্ধু- বান্ধবীদের সাথে হাসির আড্ডায় মেতেছেন। কেউবা আবার পড়ে দেখছে বাংলা একাডেমির দেয়ালে বাংলা ভাষা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাণী।

কেউ আবার নজরুল মঞ্চে নজরুলের পাশে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে হাত রেখে ছবি তুলছে। কেউ তার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য মেলায় এসে সোহরাওয়ার্দীর লাইট টাওয়ারের নিচে বসে বাদাম খাচ্ছে। কেউ স্টলে থেকে স্টলে ঘুরে ঘুরে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ গাছের নিচে টুলে বসে রকমারি আড্ডায় মেতে উঠেছে। কেউ ভাষা শহীদ চত্ত্বরের গাঁধা ফুলের সুন্দর দৃশ্যের সাথে নিজেকে ক্যামেরাবন্ধি করছে।

আবার অনেককে দেখা গেছে, বিভিন্ন টেলিভেশনের সম্প্রচার কার্যক্রমের সামনে ঘুরে ঘুরে আড্ডা দিচ্ছে যাতে তাকে টিভিতে দেখা যায়। মোট কথা হল আড্ডা দেওয়ার জন্য বই মেলা এখন একটা ভাল স্থানে পরিণত হয়েছে।

লেখকদেরকেও দেখা গেছে তথ্য কেন্দ্রের সামনে বসে তার লেখক বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কে কি ধরনের লেখা লিখেছে তা বলে চলছেন। টেলিভেশনে সাক্ষাতকার কেমন হয়েছে। এভাবে নানা ধরনের গল্প-আড্ডা থেকে তারাও বাদ যাননি।

নাঈম বুক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ও প্রকাশক মো.শরিফুল ইসলাম বলেন, আজ মেলায় শিশুদের দেখা যাচ্ছে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, বড়রা বই কেনার চেয়ে দেখছে বেশি। তারা মেলায় আড্ডাও দিচ্ছে আবার ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনি দেখে থাকবেন মেলার দর্শনার্থীরা সবাই ব্যস্ত নিজের ছবি তোলা নিয়ে।

মেলার বাইরে কথা হয় বুয়েট কলেজের ছাত্র সাইফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিদিন মেলায় আসি, আড্ডা দেই। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরার আনন্দই আলাদা, মেলায় এসেছি দেখছি,  কলেজে আসা যাওয়ার পথে মেলা হয়ে আড্ডা মেরে তারপর বাসায় যাই।

তিনি বলেন, অন্য সকল আড্ডার চেয়ে মেলার আড্ডা আলাদা এখানে বিভিন্ন লেখকদের দেখা যায়। তাদের দেখে আমার মনেও লেখার অনুভূতি জাগ্রত হয়।

এসএস