Renunciation কী?

0
220
Renunciation, রিনানসিয়েশন

Renunciation, রিনানসিয়েশনরিনানসিয়েশন হচ্ছে পরিত্যাগ করা। দাবি ছেড়ে দেওয়া। পুঁজিবাজারে এটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাপ্য শেয়ার না কিনে ওই শেয়ারের দাবি ছেড়ে দেওয়া হলে রিনানসিয়েশন তাকে রিনানসিয়েশন বলে।

রাইট শেয়ার হচ্ছে এক ধরনের অধিকারমূলক শেয়ার। অনেক সময় কোনো কোনে কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ অথবা ব্যাংক ঋণ শোধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নতুন শেয়ার ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করে। রাইট শেয়ার পাওয়ার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যে তারিখ পর্যন্ত শেয়ার হাতে থাকলে রাইট পাওয়ার আইনগত অধিকার তৈরি হয়। এ তারিখকে বলে রেকর্ড ডেট। এর পর রাইট শেয়ারের জন্য আবেদন ও টাকা জমা দেওয়ার জন্য (সাবস্ক্রিপশন) কিছুদিন সময় দেওয়া হয়।

রেকর্ড তারিখ পর্যন্ত শেয়ার থাকা সত্ত্বেও একজন বিনিয়োগকারী রাইট শেয়ারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। অথবা তিনি ওই শেয়ার না কিনে অন্য কারো নামে স্বত্ত্ব ত্যাগ করে দিতে পারেন। আমাদের দেশে রাইট শেয়ারের অধিকার অন্য কারো নামে হস্তান্তর করাকে রিনানসিয়েশন বলে।

বাংলাদেশে রিনানসিয়েশন আউট অব দ্যা ফ্লোর হয়। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী তার ইচ্ছামত যে কাউকে তা হস্তান্তর করতে পারেন। এটি নিজস্ব উদ্যোগে আর ব্যাক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব। কিন্তু ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে রেকর্ড তারিখের পর সাবসিক্রপশনের আগ পর্যন্ত সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রাইটের অধিকার কেনা-বেচা করা যায়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে রাইট অফার ডকুমেন্ট পাঠিয়ে থাকে। এতে কোম্পানির সর্বশেষ অবস্থা, রাইট শেয়ার ইস্যুর কারণ, টাকা উত্তোলনের পর তার ব্যবহার, সম্ভাব্য মুনাফা ইত্যাদি তথ্য থাকে। এর সঙ্গে থাকে রাইট শেয়ারের জন্য আবেদন করার ফরম এবং অন্য কারো নামে হস্তান্তর করার জন্য বিশেষ ফরম। এটি ফরম-বি নামে পরিচিত।

একজন বিনিয়োগকারী চাইলে পুরো শেয়ার কাউকে রিনানসিয়েট করতে পারেন। আবার তার প্রাপ্য শেয়ারের একাংশ রিনানসিয়েট করতে পারেন। আইনে একাধিক বিনিয়োগারীর মধ্যে রিনানসিয়েশন করে দেওয়ার সুযোগ আছে। আবার ওই শেয়ারহোল্ডার  তার প্রাপ্য শেয়ারের একাংশ নিজে রেখে বাকীটার স্বত্ব এক বা একাধিক বিনিয়োগকারীকে দিতে পারেন।

ফরমে শেয়ারহোল্ডারের বিও হিসাব নাম্বার, রেকর্ড তারিখে ধারণকৃত শেয়ারের সংখ্যা, প্রাপ্য রাইট শেয়ারের সংখ্যা, ওই আবেদনপত্রের মাধ্যমে কী সংখ্যক শেয়ারের স্বত্ব ত্যাগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে দেওয়া হচ্ছে তা উল্লেখ করতে হয়। যার নামে স্বত্ব হস্তান্তর করা হয় তার নাম এবং বিও হিসাব নাম্বার উল্লেখ করতে হয়।

সূত্র: পুঁজিবাজার শব্দকোষ

(জিয়া রহমান সম্পাদিত পুঁজিবাজার শব্দকোষ গ্রন্থটি পাওয়া যাবে একুশে বইমেলায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চন্দ্রাবতী একাডেমির স্টলে)