নওগাঁর আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন যেন হাটবাজার

0
217
naogaon

naogaonনওগাঁর আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে প্লাটফরমটি এখন অনেকটাই হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। কাঁচামাল দোকানসহ বিভিন্ন দোকান-পাটে দখল হয়ে গেছে গোটা প্লাটফরম। ফলে ট্রেন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রীসেবার পরিবর্তে যাত্রীরা দুর্ভোগেরই শিকার হচ্ছে বেশি। প্লাটফরম জুড়ে বিভিন্ন ফলের দোকান, কাঁচামালের দোকান, ডিমের দোকানসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান গড়ে ওঠায় যাত্রী অবস্থানের জায়গা এখন সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্য দিয়েই যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে এ প্লাটফরমে অবস্থান করতে হয়।

কখনকার ট্রেন কখন আসছে বা যাচ্ছে তার কোনো সিডিউল রক্ষা করতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ট্রেন যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আর এ অপেক্ষার জন্য প্লাটফরমে নেই কোনো ভাল মানের বিশ্রামাগার। ফলে প্লাটফরমেই তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। প্লাটফরমে যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে উঠায় যাত্রীদের ট্রেনে উঠানামারও সমস্যা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

ট্রেনযাত্রী উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আলীমুজ্জামান বলেন, চাকরি ও বিভিন্ন কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত ট্রেনযোগে নাটোর এবং সান্তাহার যেতে হয়। সম্প্রতি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘ সময় প্লাটফরমে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু প্লাটফরমে বিভিন্ন খুদে দোকান গড়ে ওঠায় আমাদের প্লাটফরমে অপেক্ষা কষ্টকর হয়ে যায়। বিশেষ করে যখন নারী ও শিশুদের নিয়ে যাত্রা করতে হয় তখন কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে স্টেশনের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশ করেই এসব দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এজন্য প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষেকে নিয়মিত মাসোহারাও দিতে হয় তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি মাসে আমাদের দুই থেকে তিনশ টাকা কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। টাকা না দিলে দোকান উঠিয়ে দেন এ কথা বলে।

এ ব্যাপারে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসোহারার প্রশ্নই আসে না। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হওয়ার অনেকটা গায়ের জোরে তারা দোকান দেয়। এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বারবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতা না পাওয়ায় সম্পন্ন করা যায় নি। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা পেলে উচ্ছেদ করা সহজ হবে বলেও তিনি জানান।