Black Monday কি?

0
407
Black Monday, ব্ল্যাক মানডে

Black Monday, ব্ল্যাক মানডেপুঁজিবাজারের কালোদিন কি? গত দু’শ বছরে বিশ্ব পুঁজিবাজারে বেশ কিছু বড় উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর কিছু কিছু পতন ধসে রূপ নিয়েছে, এটি শুধু বিনিয়োগকারী নয় সরকারের নীতিনির্ধারকসহ সবার মাঝেই কাঁপন ধরায়। কোনো কোনো ধস দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজার, এমন কি সামগ্রিক অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়। ধসের সূচনা যেদিন হয়েছে, সে দিনগুলো পুঁজিবাজারে কালোদিন হিসেবে হিসেবে পরিচিত। কাকতালীয়ভাবে কয়েকটি বড় ধসের সূচনা হয় সোমবারে। এ কারণে ওই দিনগুলোকে ব্ল্যাক মানডে বলা হয়।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বড় ধসের সূচনা হয়। তবে এ ভয়াবহতা ফুটে উঠতে শুরু করে পরের বছরের শুরুর দিকে। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে প্রথম বড় হোঁচট খায় বাজার। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেওয়া কিছু ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। পরের মাসে শুরু হয় টানা পতন। জানুয়ারির ১০ তারিখ, সোমবার লেনদেন শুরুর ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বা ৬৬০ পয়েন্ট কমে যায়। ব্যাপক আতঙ্ক ও বিক্ষোভের মুখে লেনদেন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে দর পতনের কারণে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এরপর একই কারণে আরও কয়েকদিন লেনদেন বন্ধ রাখার মত ঘটনা ঘটে।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। অন্যদিকে ৮ ডিসেম্বর সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এসইসি’র (বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি) একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে লেনদেন শুরুর আধাঘন্টার মধ্যে মূল্য সূচক ৫৪৬ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ কমে যায়। আগের দিনের অবস্থান ৮ হাজার ৫৮৫ পয়েন্ট থেকে ৮ হাজার ৩৯ পেয়েন্ট নেমে আসে। অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে এসইসি জারী করা প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সূচক অনেকটা পুনরুদ্ধার হয়, দিনশেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৫১ পয়েন্ট। এদিনের দর পতনে বিনিয়োগকারীদের ভেতর যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তার প্রভাবে থেমে থেমে বড় দর পতন হতে থাকে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দফায় দফায় বৈঠকও বাজারে স্থিতি ফেরাতে পারেনি। টানা দর পতনের ধারায় ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসই সাধারণ মূল্য সূচক ৩ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারেও এমন দিন আছে।১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর সোমবার বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস নেমে এসেছিল। হংকং থেকে এই বিপর্যয় শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউরোপ,এশিয়া ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।অক্টোবরের বাকী কর্মদিবসগুলোর মধ্যে হংকংয়ের বাজার ৪৫.৫০ শতাংশ পড়ে যায়।ওই সময়ে অষ্ট্রেলিয়ায় বাজার কমে ৪১.৮ শতাংশ,স্পেনে ৩১ শতাংশ,যুক্তরাজ্যে ২৬.৪৫,যুক্তরাষ্ট্রে ২২.৬৮ এবং কানাডায় ২২.৫ শতাংশ কমে যায়।

এর  আগে ১৯২৯ সালে পুঁজিবাজারে এমন ভয়াবহ ধস দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা।ওই বছরের ২৮ অক্টোবর সোমবার প্রথম ধসের কবলে পড়ে সে দেশের বাজার।পরদিন মঙ্গলবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সোমবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক ১২.৮২ শতাংশ বা ৩৮.৩৩ পয়েন্ট কমে ২৯৮.৯৭ থেকে ২৬০.৬৪ পয়েন্টে নেমে আসে।এর ধারাবাহিকতায় পরদিনও একই রকম দর পতন হয়।সেদিন ওই সূচক ১১.৭৩ শতাংশ বা ৩০.৫৭ পয়েন্ট কমে যায়।পুঁজিবাজারে দুই দিনের এই ধস যুক্তরাষ্ট্রকে মহামন্দার দিকে ঠেলে দেয়।১৯৪১ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যা পর্যায়ক্রমে কাটিয়ে ওঠে দেশটি।

সূত্র: পুঁজিবাজার শব্দকোষ

(জিয়া রহমান সম্পাদিত পুঁজিবাজার শব্দকোষ গ্রন্থটি পাওয়া যাবে একুশে বইমেলায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চন্দ্রাবতী একাডেমির স্টলে)