হংকংয়ে নারী শ্রমিক রপ্তানিতে ধীরগতি, অভাব প্রশিক্ষণের

0
201

Bangladesh-domestic1চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণের অভাবে হংকংয়ে নারী শ্রমিক রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। ৮০ হাজার নারী শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও চুক্তির এক বছরের মাথায় সে দেশটিতে গেছেন মাত্র ৩০১ জন নারী শ্রমিক। এজন্য সরকারের উদ্যোগ ও সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কর্মকর্তারা।

হংকং সরকারের আগ্রহ অনুযায়ী ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৮০ হাজার নারী শ্রমিক পাঠানোর চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সুযোগ না দিয়ে সরকারিভাবে সেখানে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সারাদেশে আগ্রহী নারী শ্রমিকদের নিবন্ধন করে সরকার। যাতে প্রায় ২৫ হাজার নারী নিবন্ধন করে। কিন্তু এর বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক যেতে আগ্রহী হওয়ার পরও একবছরে মাত্র ৩০১ জন শ্রমিক হংকংয়ে পাঠাতে পেরেছে সরকার। পাঠানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে আবার ২০ জনেরও বেশি নানা কারণে ফিরে এসেছেন দেশে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও চাহিদানুযায়ী শ্রমিক পাঠাতে না পারাকে প্রশিক্ষণের অভাব হিসেবেই মানছেন শ্রমিক রপ্তানির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএমইটি। আর এ জন্য দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সেদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অবহেলাকে দায়ী করছেন তারা।

বিএমইটি সূত্র জানায়, হংকং সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেদেশের কয়েকটি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি হয়।  চুক্তিতে বলা হয়, হংকং যাওয়ার বিমান ভাড়া ৪০০ মার্কিন ডলার প্রাথমিকভাবে বহন করবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। পরে কর্মীদের প্রতিমাসের বেতন থেকে সহজ কিস্তিতে তা কেটে নেওয়া হবে। আর ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ৫০৫ ডলার ঋণ দিবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে। ভিসার মেয়াদ হবে দুই বছর। আর  প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন কমপক্ষে  ৮০০ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ৪০ হাজার টাকা।

আগ্রহী শ্রমিকদের ভাষা ও কাজের দক্ষতা অর্জনে আড়াই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেবে হংকংয়ের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। প্রশিক্ষণের অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ সরকার। এক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় সর্বনিম্ন অষ্টম শ্রেণি পাস এবং বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর। প্রশিক্ষণের খরচ বহন করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সরকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হংকংগামী নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) চারটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু পর্যান্ত অবকাঠামোগত অবস্থান ঠিক না থাকায় বগুড়া ও কেরানীগঞ্জ ছাড়া আর কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু করা যায়নি। যে দুটি ইনস্টিটিউট চালু করা তা থেকে এক বছরে মাত্র ৫০০র বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় হংকংয়ের চাহিদার আলোকে টাঙ্গাইল, নারায়নগঞ্জ, পাবনা ও মিরপুরের বেগম ফজিলাতুন্নেছা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ ৪টি  আরও তিনটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএমইটি। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় এবং প্রশিক্ষণের খরচের বিষয়ে হংকংয়ের এজেন্সিগুলোর আগ্রহ না থাকায় তারা তা চালু করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামছুন নাহার বণিক বলেন, হংকংয়ে প্রশিক্ষিত নারী গৃহকর্মীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষিত নারী কর্মী না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, হংকং যাওয়ার আগে প্রত্যেক নারী কর্মীকেই আড়াই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় একসঙ্গে অনেক নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই প্রচুর প্রশিক্ষিত নারী শ্রমিক পাঠানো যাবে।

কেএফ