ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট

0
78
brahmonbaria

brahmonbariaঢাকা-সিলেট নৌরুটে ডাকাতি, ব্যাপক চাদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার ডাকে শুক্রবার ভোর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান ধর্মঘট শুরু করেছে। এতে আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌ বন্দরে আটকা পড়েছে শতাধিক মালবাহী কার্গো জাহাজ। এসব কার্গো জাহাজে সার, কয়লা, রড-সীমেন্ট, বালি-পাথর ও জ্বালানী তেলসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। আর আটকা পড়া মালবাহী কার্গো জাহাজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

শ্রমিকরা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরের পুগুদাম এলাকায় মাহি রিফাত নামে একটি কার্গো জাহাজে দুধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা জাহাজের শ্রমিকদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩টি মোবাইলসেট ও নগদ টাকাসহ প্রায় অর্ধ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নৌরুটে ডাকাতি ও ব্যাপক চাদাবাজি বন্ধ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার ভোর থেকে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরে আটকা পড়েছে শতাধিক কার্গো জাহাজ। এসব আটকা পড়া মালবাহী কার্গো জাহাজগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলগামী সার, কয়লা ও জ্বালানী তেলবাহী কার্গো জাহাজও রয়েছে বলে জানা গেছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. হাবিবুল্লাহ বাহার জানান,  শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। নৌপথে জাহাজ চালাতে গিয়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন হয়রানি ও ডাকাতদের কবলে পড়ে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট নৌপথের প্রায় ১‘শ কিলোমিটার এলাকায় ডাকাত ও চাদাবাজদের ভয়ে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে কার্গো জাহাজ চালাতে পারছে না। এই নৌরুটের ১১টি পয়েন্টে প্রতিটি কার্গো জাহাজকে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা চাদা দিতে হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকরা গতকাল মধ্যরাতে থেকে কর্মবিরতি পালন করছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক-সম্পাদক মো. নাজমুল হোসাইন হামদু জানান, নৌপথে চাদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। শ্রমিকরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দিবে না বলে জানিয়েছে। এতে করে কার্গো জাহাজ মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন ডাকাতি ও চাদাবাজি বন্ধের ব্যাপারে আগেও সরকারের কাছে মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানান।  কিন্ত এ ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অবিলম্বে নৌপথে ডাকাতি ও চাদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।