খাসির মাংস প্রতিকেজি ৫২০ টাকা

0
457

mutton_meat2রাজধানীর কাঁচাবাজারে গরু মাংস বাদে সব মাংসের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছে বিয়ে ও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব মাংসের দর বাড়তির দিকে।

শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়,খাসির মাংস কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকায়। দেশি মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায় ও ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বেড়েছে মিল্ক ভিটা দুধ, বেগুন ও করলার দাম।

বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনই মুরগির দর বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগি খামারে বড় মুরগির চালান শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। আবার নতুন মুরগি আসায় দর বাড়ছে বলে মনে করেন বিক্রেতারা। তাছাড়া  রাজধানীতে বিয়ে ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নানা অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়া দেশি মুরগি ও খাসির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শান্তিনগরের খাসির মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ সোহেল অর্থসূচককে জানান, এখন খাসির মাংসের চাহিদা বেশি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খাসির মাংসের একটু বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মিল্ক ভিটা দুধের দাম বেড়েছে লিটার ৪ টাকা। এক লিটারের প্যাকেট ৫৮ থেকে  বেড়ে ৬২ টাকা। হাফ লিটারের প্যাকেট ৩২ থেকে বেড়ে ৩৪ টাকা হয়েছে।

শান্তিনগর বাজারের বিসমিল্লাহ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের বিক্রেতা দেলাওয়ার জানান তিন দিন ধরে তারা এই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সবজির বাজারে বেগুনের দর  কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে৫০ থেকে ৬০ টাকা। করলা ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, উচ্ছে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা হোসেন আলী জানান, পাইকারি বাজারে বেগুন ও করলা বাড়তি দরে কিনতে হয়েছে। তাতে একটু বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর বাজারে নতুন পটল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। তবে অন্যান্য নিত্য পণ্যের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

আজকের বাজার চিত্রঃ

কাঁচাবাজার :

কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, গোল বেগুন ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা,  শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, চিচিঙ্গা ১২০ টাকা, পুরাতন আলু ১৫ টাকা, নতুন আলু ১০ থেকে ১২ টাকা, গাজর  ২৫ টাকা, করলা ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, উচ্ছে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, নতুন পটল  ২৪০ টাকা, পেঁপে  ১৫ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ২৫ টাকা, দেশি টমেটো ৩০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা, ওলকপি ২০ টাকা, শালগম ২৫ টাকা, ক্যাপসিক্যাম ১৫০ টাকা ও মটরশুটি  ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতিটি ফুলকপি ২৫ টাকা, ব্রকলি (সবুজ ফুলকপি) ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ টাকা, লাল বাঁধাকপি ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৮০ থেকে ১২০ টাকা ও লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতিহালি কাঁচকলা ২৫ টাকা ও লেবু ২০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে লালশাক, লাউশাক, পালংশাক, মুলাশাক, কুমড়াশাক, ডাটাশাকসহ নানা ধরনের শাকের আটি ১০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবং লেটুস পাতা প্রতিটি ২০ টাকা, চায়নাশাক ২০ টাকা, পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২৫ টাকা, ধনেপাতা প্রতি ১০০ গ্রাম ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি :

মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি নতুন পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকা, চায়না বড় রসুন ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, একদানা রসুন ১০০ টাকা, চায়না আদা ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৩০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান আদা ১২০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা, হলুদ ১২০ টাকা, হলুদের গুঁড়া ১৬০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২২০ টাকা, ধনিয়া ৮৫ টাকা, আটা (প্যাকেট) ৩৮ টাকা, ময়দা (প্যাকেট) ৪৮ টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা, এলাচি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জিরা ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, বেশন ৫৫ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১১০ টাকা, ভারতীয় মশুর ডাল ৮০ টাকা, খেসারি ডাল ৪৪ টাকা, মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪২ টাকা, মাসকলাই ১২০ টাকা, বুট ৬০ টাকা, খোলা চিনি ৪৪ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫২ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১১৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১১৯ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

চাল :

আজ চালের বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা,লতা আটাশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, জিরা নাজির ৫২ টাকা, আটাশ ৪৫ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুড়া ১১০ টাকা, পারিজা ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৪৪ টাকা, বিআর-২৯ ৪৪ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিম :

আজকে বাজারে প্রতি হালি লেয়ার মুরগির লাল ও সাদা ডিম ২৮ টাকা, হাঁসের ডিম ২ টাকা কমে ৩৮ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪৫ টাকা হালি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছ :

দেশি আইর মাছ ৩০০ টাকা, বাইম ৪০০ টাকা, ফলুই ৩৫০ টাকা, গুলশা ৩৫০ টাকা, কাইবা ২৫০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, কাজুলি ৩০০ টাকা, পুটি ৩০০ টাকা বেলে ৩৫০ টাকা, মেনি ৪০০ টাকা, দেশি কই ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, টাকি ২৫০ টাকা, গজাল ৪০০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, ভেদা ৩০০ টাকা, মলাঢেলা ২০০ টাকা, কাচকি মাছ ২৫০ টাকা, সুরমা মাছ ১৬০ টাকা শোল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে।

তাছাড়া, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের বেশি প্রতিহালি ইলিশ ২ হাজার টাকা। জাটকা ইলিশ ৩০০ টাকা, চন্দনা ইলিশ ১৫০ টাকা, কাতল মাছ ৩০০ টাকা, রুই মাছ ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ টাকা, চায়না পুটি ১২০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ১ হাজার ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুঁটকি মাছ :

শুঁটকি মাছ প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি শুঁটকি মানভেদে ৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, টাকি ৬০ টাকা, কাচকি ৬০ টাকা, লইট্যা শুটকি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাইম মাছের শুঁটকি ৮০ টাকা, চাপিলা শুটকি ৬০ টাকা, পুঁটি মাছের শুঁটকি ৬০ টাকা, নলা মাছের শুঁটকি ৬০ টাকা, চান্দা মাছের শুঁটকি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি ইলিশ মাছের শুঁটকি ৭০০ টাকা ও কাইলা শুঁটকি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস :

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ২৮০ টাকা, খাসির মাংস৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের প্রতিটি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা টাকা, লেয়ার মুরগি ১৪৫ টাকা, হাঁস ৩০০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৪৫০ টাকা এবং কবুতরের বাচ্চা ২৫০ টাকা জোড়া হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

ফল :

আজ ফলের বাজারে আপেল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, মালটা ১৫০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা ও প্রতি ডজন কমলা ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বেদানা ২৫০ টাকা, পেয়ারা ১৫০ টাকা, আমড়া ১২০ টাকা, আমলকি ১৫০ টাকা, ছবেদা ৮০ টাকা ও জলপাই ৪০ টাকা, কুল বড়ুই ১২০ টাকা, আপেল বড়ই ১২০ টাকা, বাউ কুল ৭০ টাকা, টক বড়ুই ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে

এছাড়া, প্রতিহালি সাগর কলা ২৫ টাকা, নেপালি কলা ১৫ টাকা, শবরী কলা ২৫ টাকা, চাপা কলা ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি জাম্বুরা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বেল ৮০ থেকে ১৫০ টাকা এবং  আনারস প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।