বড় হচ্ছে মাছ রপ্তানির বাজার, বাড়ছে সম্ভাবনা

0
172

Khulna-fish-bg20130917213328আগামি কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা পৌছে যাবে ৯০০ কোটিতে। মানুষের এই বর্ধিত সংখ্যা বাড়িয়ে দিবে আমিষের চাহিদা। কিন্তু এই সময়ে প্রাকৃতিক উৎসগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো হ্রাস পাবে। এই অবস্থায় পুষ্টির চাহিদা পূরণে মানুষ নির্ভর হয়ে পড়বে খামারে উৎপাদিত মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবারের উপর। আর এই সুযোগে উন্নয়নশীল দেশগুলো খামার উৎপাদিত সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করে আয় করে নিতে পারবে বেশ বড় অংকের অর্থ।

আর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার তার জন্য এটি আরও বড় সুযোগ বলে মনে করছেন মাছ ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকরা।

তাদের মতে, বাংলাদেশের খামারে মাছ চাষের যে সুযোগ রয়েছে তা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই। তাই নতুন কিছু উদ্যোগ আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের কৃষি এবং পরিবেশ সেবা বিভাগ প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা মতো বাংলাদেশও আয় করতে পারবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবুল বাশার আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আগামি দিনে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারবে।

তার মতে, বাংলাদেশের অনেক পণ্যের তুলনায় এখন হিমায়িত মৎস রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই ধারা অব্যাহত থাকলে কিছু দিনের মধ্যে রপ্তানি আয়ে তুলনামূলক ভাবে এটি অন্য খাতগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রপ্তানি করা হয়েছে।

আলোচ্য সময়ে এই রপ্তানি পরিমাণ কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

আবুল বাশারের মতে, খাতটির রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এবং বিশ্ব ব্যাংকের অনুমিত এই সম্ভাবনার দেখা পেতে মাছ চাষে সরকারি সহায়তা ও রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাতটির মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। তবে প্রথমার্ধের বাড়তি রপ্তানির কারণে অনেকে আশা করছেন বছর শেষে এই রপ্তানির পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে সামুদ্রিক খাবার ৫৫ শতাংশ প্রাকৃতিক উৎস থেকে এবং ৪৫ শতাংশ খামার হতে আহরণ করা হয়। তবে আগামি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬২ শতাংশ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে খামারে উৎপাদিত সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমে। এসময়ে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাত্র ৩৮ শতাংশ খাবার সংগ্রহ করা যাবে। শুধুমাত্র এশিয়া অঞ্চলে ভোগ করা হবে আহরিত সামুদ্রিক খাবারের ৭০ শতাংশ।

Global Seafood Consumption-2012 vs 2030-735x493

তাই বর্ধিতে এই চাহিদার জন্য খামারে মাছসহ সামুদ্রিক খাবারের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া কোন গতি নেই। আর এই চাহিদা পূরণে খামার উৎপাদন বাড়ানোর সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হল বাংলাদেশের মত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলীয় দেশ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোও আমিষের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে খামারে উৎপাদিত সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়িয়ে নিতে পারে।

এ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের কৃষি এবং পরিবেশ সেবার প্রধান জুয়ার্জেন ভোগলি বলেন, পরিবেশ বান্ধব মাছ চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো।

জুয়ার্জেন জানান, এই কাজে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে বিশ্বব্যাংক। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই কাজে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে ভিয়েতনাম এবং ঘানা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছ রপ্তানির এই সুযোগ এখনই বিবেচনা করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের। যথাযথ পদক্ষেপ নিলে অদূর ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন তারা।