পোশাক শ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান

0
95

Garments_Workerট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা শ্রমিকদের ওপর হুমকিসহ মানসিক নির্যাতন চালানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত শ্রমিকদের ওপর এসব নির্যাতন বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শ্রমিক ইউনিয়ন করার সুযোগ দেওয়া।

এইচআরডাব্লিউ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ঢাকাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার মোট ৪৭ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারা। এসময়  শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কোনো কোনো কারখানার ব্যবস্থাপকরা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে ও দুর্ব্যবহার করেছে। এমনকি তাদের মারধরসহ হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত থাকায় অনেককেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, কারখানা মালিকরা অনেক সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ সব শ্রমিককে হুমকি ও তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে শ্রমিক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন প্রণয়নের আগে  কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিবন্ধন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল শ্রম মন্ত্রণালয়। তবে আইন প্রণয়নের পর ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা সহজ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের নিবন্ধন করার আগে শতকরা ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ।

এইচআরডাব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা এড়াতে ও শ্রমিক শোষণ বন্ধে স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা উচিত। এ সব ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। তবে তার নামে শ্রমিকদের নির্যাতন করা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার অবশেষে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নিবন্ধন দিতে শুরু করেছে।  তবে কারখানা মালিকরা যেন শ্রমিক নেতাদের ওপর নিপীড়ন না চালায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।  এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উচিত শ্রমিক অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা।

তবে কারখানা মালিকেরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ব্যাপারে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারাখানা মালিক এইচআরডাব্লিউকে বলেছেন, ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলো ইউনিয়নকে পরিচালনা করার চেষ্টা করতে পারে বলে আরেক কারখানা মালিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।