‘৭ম পঞ্চবার্ষিক বাস্তবায়নে ১.২৯ কোটি চাকরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
46
Lotus-Kamal
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল- ফাইল ছবি।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির চূড়ান্ত সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

Lotus-Kamal
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল- ফাইল ছবি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান তৈরি এবং আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা। এবারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গড়ে ৭.৪ ভাগ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৬.২ ভাগ কমিয়ে বর্তমানের ২৪.৮ থেকে ১৮.৬ ভাগে নিয়ে আসা হবে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৯.৬ ভাগ থেকে ১১.৯ ভাগে উন্নীত করা হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকে প্রাধান্য দেয়া হবে উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এবারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি প্রক্রিয়াজতকরণকে সর্বাধিক সুযোগ দিতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে শূন্য কর সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, এবারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাজেটের সাথে সঙ্গতি রেখে পরিকল্পনা দলিলকে তেরটি খাতের আওতায় প্রণয়ন করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচক। এতে করে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হবে। একই সাথে বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে। ভূ-অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উৎকৃষ্ট স্থান। এদেশের মানুষ যারা বিদেশে বিনিয়োগ করছেন তারা একযুগ পর এদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলেও সুযোগ পাবেন না। অন্যেরা ততদিনে সে স্থান পূরণ করে ফেলবে।

দেশে আয় বৈষম্য কমে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে রংপুর অঞ্চলে শ্রম মজুরী ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এটা এ নির্দেশনা দেয় গ্রাম ও শহরের মজুরী দিনে দিনে কমে আসছে।

তিনি বলেন, দেশের টাকা দেশে যত বেশি ব্যবহৃত হবে জনগণ ততবেশি এর সুফল পাবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে স্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকতে হবে। একই সাথে আমাদের স্থলভাগ ও সমুদ্র থেকে বিভিন্ন খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। এর ফলে রপ্তানি পণ্যের কমপ্লিয়েন্স নিশ্চিত করতে হলে আমাদের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিক করতে হবে।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম।

তিনি বলেন, আজকের সভা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলে (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সভায় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সমুদ্র সম্পদ বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলেন।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এমআই/