ক্রেতাদের নজর কেড়েছে পাটজাতীয় পণ্য

0
67
trade-fare

trade-fareবাঙালি ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনতে দিনদিন বাড়ছে পাটজাত পণ্যের চাহিদা।  তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী পণ্য বলেই ক্রেতারা পাটজাত পণ্য দেখছেন এবং কিনছেন। পাট দিয়ে তৈরি নানা রকম আকর্ষণীয় ফ্যাশনেবল পণ্যের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহের কমতি নেই।

বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন পাট জাতীয় পণ্যের স্টল আর প্যাভেলিয়নে গেলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাটজাত পণ্যের স্টলে ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শত ভাগ দেশি আর দাম হাতের নাগালে থাকায় এসব পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের মাঝে রয়েছে বেশ আগ্রহ।

মেলায় পাটের তৈরি মেয়েদের জন্য বিভিন্ন রকম পার্স, কলেজ ব্যাগ ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জুতা। শো-পিস, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, ছিকাসহ পাওয়া যাচ্ছে গৃহস্থালির নানা ধরনের পণ্য। এছাড়া রয়েছে লাইফটাইম ক্যালেন্ডার ও ল্যাম্প শেডসহ পাটের নতুন নতুন আকর্ষণীয় জিনিসপত্র।

আর দামও রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। বাহারী ডিজাইনের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।  জুতার দাম রাখা হচ্ছে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া মেয়েদের জন্য বিভিন্ন দামের গহনা, শো-পিস দোলনা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে বেচা-বিক্রির পাশাপাশি পণ্যের প্রচারণা বাড়ানোই মেলায় অংশগ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান কয়েকজন বিক্রেতা।

এ ব্যাপারে কথা হলে ক্রেতা নীলিমা চৌধুরী জানান, পাটের যে নতুন জিনিসগুলো তৈরি হচ্ছে তা ইয়ং জেনারেশনরা ব্যবহার করতে বেশ পছন্দ করেন।  কারণ এগুলো শত ভাগ পাটের। তাছাড়া আমাদের দেশীয় জিনিস কিনতে পারলে আমাদের নিজের কাছেও ভালো লাগে।

রাণী নামে এক ক্রেতা বলেন, যেহেতু পাটের জিনিস- তাই দামটা আরেকটু কমালে ভালো হতো। তবুও দেশি জিনিস ব্যবহার করলে তৃপ্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া সবগুলোই আনকমন।

এ বিষয়ে কথা হলে রীনা হস্ত কুটির শিল্পের পরিচালক রীনা বিশ্বাস অর্থসূচককে বলেন, জুয়েলারী বক্স, ফ্রুট বক্স ছিকা, দোলনাসহ বেশ কয়েকটি আইটেম নিয়ে আসছি। সাড়াও পাচ্ছি বেশ ভাল।

তিনি বলেন, হস্ত শিল্পের এসব পণ্য তৈরি করতে বেশ সময় ব্যয় হয়। কারিগরদের যে মজুরি দেই তাতে আমাদের পোষায় না।

তিনি বলেন,  ক্রেতারা নিত্য নতুন প্রোডাক্ট চাচ্ছে এবং আমরা সেভাবেই তৈরি করছি, দামও রয়েছে হাতের নাগালে।

বৃন্তা জুট হ্যান্ডিক্রাপ্টের প্রোপাইটর স্মিতা চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন, আগে মানুষ পাটের জিনিসের তেমন মূল্যায়ন করত না, এখন সবাই পাটের জিনিস কিনছে। এর কদর দিন দিন বাড়ছে।

তবে সরকারিভাবে পাটের পণ্যের প্রচার-প্রচারণা চালালে এসব পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে জানান তিনি।

তবে পাটের দাম কমানো হলে পাট দিয়ে আরও নিত্য নতুন জিনিস তৈরি করা যাবে। দামও ক্রেতার একেবারেই ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যাবে। আর তখন এসব পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়বে বলে জানান বেশ কয়েকজন বিক্রেতা।

এদিকে যে প্রত্যাশা নিয়ে মেলায় আসা এখনও তা পূরণ হয়নি বলে কেউ কেউ। তবে মেলার শেষ দিকে প্রত্যাশিত বিক্রি পাবেন বলেই আশা করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলায় দায়িত্বরত জেডিপিসি (জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার) এর সচিব এম. এ. সালাম অর্থসূচককে বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন হলেই এসব পণ্যের কদর বাড়বে।

তিনি বলেন, যে দামে পলিথিন পাওয়া যায় সে দামে তো পাটের ব্যাগ পাওয়া যায় না। কম দামে পায় বলে ক্রেতারা পলিথিন কিনে। কিন্তু পলিথিনের ক্ষতি আর পাটের উপকারিতা সম্পর্কে ক্রেতাদের ভালো  ধারণা থাকলে অবশ্যই পাটের জিনিস কিনতেই আগ্রহী হবে।

পাট জাতীয় পণ্যের কদর বাড়াতে আর ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে এর সরকারিভাবে এর প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জেইউ/