দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে শত শত বস্তা আলু ঢেলে কৃষকের প্রতিবাদে

0
65

Potatto_protestদিনাজপুরে উৎপাদিত আলুর মূল্য না পেয়ে কৃষকেরা মহাসড়কে শত শত বস্তা আলু ফেলে দিয়ে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টার সময় দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহা সড়কের বীরগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনারে শত শত আলু চাষী তাদের উৎপাদিত আলুর মূল্য না পেয়ে আলু নিয়ে এসে মহাসড়কের ওপর ঢেলে দেয়।

মহাসড়কে ফেলে দেয়া এ আলুর উপর দিয়েই চলে যায় অসংখ্য যানবাহন।  যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শত শত বস্তা আলু মিশে যায় রাস্তার সাথে। চাষীরা ঢেলে দেওয়া আলুর উপর শুয়ে সড়ক অবরোধ করে। অবরোধ শেষে তারা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে।

কষ্টার্জিত আলুর ন্যায্য মূল্য এবং  ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষীদের ব্যাংকের ঋণ মওকুফের দাবী জানিয়ে স্লোগান দেয় তারা । আলু চাষী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সেখানে সমবেত চাষীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,আলু চাষী আলিমুদ্দিন, ফারুক হোসেন,মঞ্জুরুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ।

তারা বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আলু চাষীদের দাবী আদায় সংক্রান্ত একটি স্মারক লিপি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে প্রদান  করেন।

বীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণ নগর গ্রামের আলু চাষী আব্দুর রশিদ জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সমিতি এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক একর জমি ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে আলু চাষ করেছিলেন । এক একর জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকদের মজুরীসহ খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। জমি চুক্তি ও কৃষি উপকরণ এবং শ্রমিকের মজুরীসহ সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার টাকা। এক একর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে ৮ হাজার কেজি। এক টাকা ৮০ পয়সা কেজি দরে ৮ হাজার কেজি আলু বিক্রি করেছে ১৪ হাজার টাকায়। জমির মালিককে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৬ হাজার ৪শত টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম  জানান,এবার রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়েছে। লাভজনক ফসল হওয়ায় এবার  জেলায় ৩৫ হাজার ৪’শ ৭৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাষ হয়েছে ৪৫ হাজার হেক্টররের বেশী জমিতে।  দেশের  রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা সর্তকতার সঙ্গে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করছেন। এর প্রভাব পড়েছে আলুর  বাজারে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন আলু চাষীরা।