শাহবাগ জেগে থাকে, শাহবাগ ঘুমায় না

0
105

gonojagoronসারা দেশ-জাতি আশা করেছিল মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অপরাধে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় হবে। কিন্তু ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রায় ঘোষণা করলেন। রায়ে দেখা গেল কাদের মোল্রার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এর পরই এই রায়ের প্রতিবাদের প্রথম আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শাহবাগে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ। দুপুরের পর থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের সংখ্যা। সকলের মুখে মুখে ‘এই রায় মানি না’, ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’ কিংবা ‘…তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’ ‘শাহবাগ জেগে থাকে, শাহবাগ ঘুমায় না’ স্লোগান।

গণহত্যাসহ ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দেওয়া হয়। ওই দিন বিকেলেই ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের (বোয়ান) ব্যানারে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে সমবেত হয় একদল তরুণ। সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাশ বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধভাঙা স্রোত ছুটে যায় শাহবাগে।  ৬ ফেব্রুয়ারি সকালেই শাহবাগ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিকেলে এ জনসমুদ্রের উত্তাল গর্জনের মধ্যে বোয়ানের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা দেন, ‘কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ছাড়া ঘরে ফিরে যাব না। তার এ ঘোষণার পর লাখো জনতা ত্রিশ লাশ শহীদের রক্তঋণ শোধের শপথ নেন। ৭ ফেব্রুয়ারি ডা. ইমরান এইচ সরকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠা এবং এই মঞ্চের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ছিল গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম মহাসমাবেশ। ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরেও প্রজন্ম চত্বরের সমর্থনে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ২১ ধারা সংশোধন করে রাষ্ট্রপক্ষে আপিলের সুযোগ রাখা হয় সংশোধিত আইনে। ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় প্রজন্ম চত্বরে লাখো মোমবাতি প্রজ্বালনে অভূতপূর্ব আলোর মিছিলে।

৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬৪ দিন শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে গণজাগরণ মঞ্চ।

এরপর গত এক বছরে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে গণজাগরণ মঞ্চ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি রায়ের দিন শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে মঞ্চ। এ ছাড়া জামায়াত-শিবিরের হামলা, সহিংস হরতাল কর্মসূচির বিরুদ্ধে নিয়মিত বিক্ষোভ কর্মসূচি, পাকিস্তানি পণ্য বর্জন কর্মসূচি, একাত্তরের কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তানি সংসদে নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিবার হামলা, নির্যাতনের শিকার হলেও রাজপথ ছাড়েনি গণজাগরণ মঞ্চের তরুন নেতৃত্ব। সবশেষে জানুয়ারিতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে যশোরের মালোপাড়া ও ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও অভিমুখে রোডমার্চ করেন গণজাগরণের কর্মীরা।

গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠার এক বছর হলো আজ। দিনটিকে ঘোষণা করা হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে চলছে নানা কর্মসূচি।

সকাল ৭:০০টায়  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা।এর পর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় মঞ্চের কর্মীরা।

তবে মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল  ৩:০০টায়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে এ অনুষ্ঠান। বিকেল সাড়ে তিনটায় দেশ-বিদেশের সকল গণজাগরণ মঞ্চে একযোগে শুরু হবে শপথ গ্রহণ।বিকেল চারটায় হবে জাগরণ যাত্রা। উম্মুক্ত স্মৃতিচারণ হবে  সন্ধ্যা ৬:০০টা থেকে ৭:০০টা পর্যন্ত। এর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আজকের অনুষ্ঠান।

তবে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারিও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন।

৬ ফেব্রুয়ারি, ২য় দিন:
(স্থান: শাহবাগ প্রজন্ম চত্ত্বর)

সাংস্কৃতিক পরিবেশনাঃ বিকাল ৩:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০টা

গণমাধ্যম কর্মীদের স্মৃতিচারণঃ সন্ধ্যা ৬:০০টা থেকে রাত ৮:০০টা

মুক্তিযুদ্ধের পঙক্তিমালাঃ রাত ৮:০০টা থেকে রাত ১০:০০টা

৭ ফেরুয়ারি, ৩য় দিনঃ
(স্থান: শাহবাগ প্রজন্ম চত্ত্বর)

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাঃ সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ১২:০০টা পর্যন্ত

প্রথম গ্রুপঃ ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিষয়ঃ রং তুলিতে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় গ্রুপঃ ৪র্থ-৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত। বিষয়ঃ রং তুলিতে মুক্তিযুদ্ধ
তৃতীয় গ্রুপঃ ৭ম- ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত। বিষয়ঃ রং তুলিতে শাহবাগ

প্রজন্ম চত্ত্বরে বিকাল ৩:০০টা অনুষ্ঠিত হবে জাগরণ সমাবেশ।