মেলায় তৈজসপত্রের ওপর ছাড়

0
38
product

productবাণিজ্য মেলায় গৃহস্থালির বিভিন্ন  জিনিসের পাশাপাশি তৈজসপত্র জিনিসের প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে গৃহিনীদের ভিড় অনেক বেশি। মেলায় শৌখিন জিনিসপত্রের পাশাপাশি ঘরের নিত্য ব্যবহারের এসব তৈজসপত্র বেশি কিনছেন তারা। পণ্যভেদে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন তৈজসপত্রের ওপর রয়েছে বিশেষ ছাড়। তাই বিক্রিও হচ্ছে বেশি। নারীদের পছন্দের কেনাকাটার তালিকায় রয়েছে গৃহস্থালী সামগ্রী। আর এর মধ্যে তৈজসপত্র জিনিসের দিকে তাদের ঝোঁক একটু বেশি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এসব পণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। আর বিক্রি বাড়ায় এসব স্টলের কর্মীরাও উচ্ছ্বসিত।

এবারের মেলায় ভারত, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বাহারি পণ্যের স্টলগুলোয়ও চলছে বেশ বেচাকেনা। মেলায় রয়েছে হাঁড়িপাতিল, ওভেন, থালাবাটি, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিল, প্রেসার কুকার, হটপট, চামচসহ নানা ধরনের তৈজসপত্র।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, তৈজসপত্রগুলোর মধ্যে নতুন ও ব্যতিক্রমী পণ্যের দিকে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের।

ভারতের একটি স্টলে দেখা গেছে, ভেজিটেবল চপার ৩০০ টাকা, ভেজিটেবল স্লাইসার ৪০০ টাকা ও টমেটো চপার ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এই দোকানকে ঘিরে  ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে চলছে বেচাকেনার ধুম। এখানে একটি মাঝারি আকারের ননস্টিক কড়াইয়ের দাম নিচ্ছেন ৬০০ টাকা।

আবার ইরানি পণ্যের স্টলে তিনটি হটপটের দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। মেলামাইনের একটি থালার দাম রাখা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ভাতের ডিস।

রাজধানীর মালিবাগ থেকে মেলায় আসা রেহেনা রুমা নামে এক গৃহিনী অর্থসূচককে বলেন, বিদেশি জিনিসতো সবসময় পাওয়া যায় না। তাই মেলায় এসে একসঙ্গে বিদেশি অনেক তৈজসপত্র কিনেছি। মেলায় এসে প্রতি বছর  বিদেশি কোনো না কোনো তৈজসপত্র কিনেন। এবার ইরানী প্যাভিলিয়ন বড় একটি ডিস ও দিল্লী প্যাভিলিয়ন থেকে একটি চপার কিনেছেন বলে জানান তিনি।

তবে শুধু বিদেশি নয়, দেশীয় তৈজসপত্রের দোকানেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এক্ষেত্রে একটু দামি ও ব্র্যান্ডের স্টলগুলোতেই ক্রেতারা বেশি ভিড় করছেন।

দেশীয় স্টল কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজে দেখা গেছে,  ৪২ পিসের একটি ডিনারসেট পাওয়া যাচ্ছে  সাড়ে  ৮ হাজার টাকায়। আর ৩১ পিসের সেটের দাম রাখা হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন পণ্যের উপর মূল্য ছাড় দিচ্ছেন ক্রেতারা। স্টলগুলোর বিক্রয় কর্মীরা বেশ হাঁকডাক দিয়ে পণ্যের ছাড় সম্পর্কে ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছেন। আবার কেউ কেউ দোকানের সামনেই মূল্যছাড়ের ঘোষণাপত্র ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজ ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় ঘোষণা করেছে। এই দোকানের বেশির ভাগই ডিনারসেট বিক্রি হচ্ছে।

সুমি এন্টারপ্রাইজ ওভেন, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিলসহ বিভিন্ন পণ্যে দিচ্ছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

কি জন্য এত বেশি ছাড় দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সুমন নামে এক বিক্রয় কর্মী জানান, পণ্যের বিক্রি বাড়াতেই এই ছাড়। মেলায় অনেক খরচ করে স্টল নেওয়া হয়েছে, সেই খরচ তো উঠাতে হবে।

দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম তাদের সব পণ্যে ১০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব দোকানেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ মূল্য ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দেশে তৈরি কিয়ামের তৈজসপত্রের কদর বাড়ছে।

নতুন নকশার পণ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি রয়েছে বলে জানান প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ ফারুক হোসেন।

তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের মতামত আর চাহিদা জানতে মেলায় অংশ নিয়েছেন। এতে ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্য তৈরি করে বাজারে ছাড়া সম্ভব হবে।

কিয়ামের ননস্টিক সাতটি পণ্যের প্যাকেজ কিনলে ৬০০ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেলায় এ কোম্পানিটির বিভিন্ন ধরনের অনেক পণ্যের সমাহার রয়েছে।

জেইউ