সংসদ সদস্য বদিকে তলব করেছে দুদক

0
41

badiঅবৈধ সম্পদ উপার্জনের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আগামি ১৬ ফেব্রুয়ারী তাকে দুদকে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক আহসান আলী ডাকযোগে আব্দুর রহমান বদিকে এ নোটিশ পাঠায়।

আবদুর রহমান বদির অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে কক্সবাজার গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা আহসান আলী।

নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়,  পাঁচ বছের বদির সম্পদ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।

ইসির কাছে দেওয়া বদির হলফনামার তথ্য অনুসারে, জীবনে প্রথম সাংসদ হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। আর নিট সম্পদ বেড়েছে ১৯ গুণেরও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, হলফনামায় বদির কেবল আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত অর্থ ও সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও টেকনাফে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে এ টাকা অর্জন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। হলফনামা অনুসারে এমপি বদির বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা।

এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় বলেছেন, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। আর ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা। তখন (২০০৮) বিভিন্ন ব্যাংকে আবদুর রহমান বদির মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা। পাঁচ বছরের মাথায় এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি পাঁচ লাখ ১০ হাজার ২৩৭ টাকা। তার হাতে ২০০৮ সালের নভেম্বরে নগদ টাকা ছিল দুই লাখ সাত হাজার ৪৮ টাকা। আর এখন ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এখন স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

আয়কর বিবরণীতে তিনি দেখিয়েছেন সাত কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৮ টাকা। আর নিট সম্পদের পরিমাণে বলা হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৩ টাকা। পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালের আয়কর বিবরণী অনুসারে, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা। আর নিট সম্পদ ছিল ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৩ টাকার।

প্রসঙ্গত, ১২ জানুয়ারি কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে বদিসহ সাত জনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। আর সেলক্ষ্যে ২২ জানুয়ারি আব্দুর রহমান বদির সম্পদের অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক আহসান আলীসহ সাত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন।