৭ম পঞ্চবার্ষিকী: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের অপেক্ষায় কমিশন

মাইদুল ইসলাম

0
224

১ কোটি ৩২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার (২০১৬-২০) খসড়া চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন এখন অপেক্ষায় আছে খসড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের।

সোমবার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. ড. শামসুল আলম অর্থসূচককে এ কথা জানিয়েছেন।

poncho
ছবি সংগৃহীত

 

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করেছি। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার পর প্রধানমন্ত্রীর নিকট সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কোনো পরামর্শ থাকলে আমরা তা সংযোজন-বিয়োজন করবো।

প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিলে তা অন্তর্ভূক্ত করে পরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উত্থাপন করা হবে বলে জানান ড. শামসুল আলম।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ে পৌঁছানোর জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে কিছু মানদণ্ড স্থির করা হয়েছে। সেই মোতাবেক তৈরি করা হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর জন্য মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক নির্দেশকের যে অগ্রগতি দরকার, তাই করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৫ বছরে (২০১৬-২০) নতুন ১ কোটি ৩২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। দেশি ও বিদেশি মিলে এ কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮ ভাগ।

অর্থবছরভিত্তিক ২০১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে ৬ দশমিক ৬ ভাগ, ২০১৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ ভাগ, ২০১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২, ২০১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ ভাগ এবং পরিকল্পনার শেষ অর্থবছরে (২০২০ সালে) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ ভাগে। এছাড়া ৫ বছরে দেশের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ২ ভাগ। অর্থবছরভিত্তিক এ লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৬ অর্থবছরে ৬ ভাগ, ২০১৭ অর্থবছরে ৬ ভাগ, ২০১৮ অর্থবছরে ৬ ভাগ, ২০১৯ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ এবং ২০২০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ভাগ।

খসড়া থেকে জানা গেছে, পরিকল্পনাতে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা; প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগ এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করা; ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫০ জনে নামিয়ে আনা; জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা; বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা; গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশে উন্নীত করা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বাধ্যতামূলক করা।

এ বিষয়ে ড. মো. শামসুল আলম বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ গঠন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ, আইসিটি-স্বাস্থ্য-শিক্ষা সংক্রান্ত সেবা রফতানিতে সুনির্দিষ্ট নীতিকৌশল প্রণয়ন, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে গতিশীলতা আনয়ন ও রফতানির গতিশীলতা বৃদ্ধিতে পণ্যের বৈচিত্রায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে নতুন পরিকল্পনায়।

এমআই/