৯৮ উপজেলায় প্রতীক বরাদ্দ ও প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু

0
30
নির্বাচন কমিশন

nirbachon komishonচর্তুথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে তফসিল ঘোষিত ৯৮ উপজেলায় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।  প্রতীক বরাদ্দের সাথে সাথেই প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইসি প্রথমে ৩০টি প্রতীক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলেও অনেক উপজেলায় প্রার্থীর সংখ্যা ১০ এর অধিক হওয়ায় এতে আরও ২০টি নতুন প্রতীক যোগ করা হয়।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য এখন ২০টি, পুরুষ নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য ১৫টি এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ১৫টি প্রতীক চূড়ান্ত করে ইসি।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রতীক হল- ‘আনারস’,  ‘কাপ-পিরিচ’,  ‘চিংড়িমাছ’,  ‘মোটরসাইকেল’, ‘ঘোড়া’, ‘টেলিফোন’,  ‘দোয়াত-কলম’, ‘ব্যাটারি’, ‘হেলিকপ্টার’ ও ‘ফেজটুপি’।এছাড়া চেয়ারম্যানের জন্য যে ১০টি অতিরিক্ত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হল- একতারা, ময়ূর, বাঁশি, লাটিম, হাতী, স্টিলের আলমারি, ডাব, কেটলি, গ্লাস ও রেল ইঞ্জিন।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রতীক হল ‘চশমা’, ‘টাইপরাইটার’, ‘তালা’, ‘টিউবওয়েল’, ‘মাইক’, ‘উড়োজাহাজ’, ‘টিয়াপাখি’, ‘জাহাজ’, ‘বই’ ও ‘বৈদ্যুতিক বাল্ব’। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য যে ৫টি অতিরিক্ত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেগুলো হল- দাবা বোর্ড, পানপাতা, সিংহ, ক্রিকেট ব্যাট ও ঘুড়ি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রতীক হল ‘প্রজাপতি’, ‘হাঁস’, ‘ফুটবল’, ‘ক্যামেরা’, ‘কলস’, ‘পদ্মফুল’, ‘ফুলের টব’, ‘বৈদ্যুতিক পাখা’, ‘তীর-ধনুক’ ও ‘সেলাই মেশিন’। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত প্রতীকগুলো হল- টিফিন ক্যারিয়ার, মুলা, ফ্ল্যাক্স, তবলা ও সুটকেস।

প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় বলা হয়েছে, “প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক থেকে পছন্দ মতো যেকোনো একটি প্রতীক মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করবেন। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে, প্রার্থীগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে রিটার্নিং অফিসার যতদূর সম্ভব, প্রার্থীগণের পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

“বরাদ্দকৃত প্রতীক সংখ্যা অপেক্ষা প্রার্থী অধিক হলে কমিশন উক্ত তালিকায় নতুন প্রতীক সংযোজন করতে পারবে। রিটার্নিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজিয়ে তার বিপরীতে বরাদ্দকৃত প্রতীক সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন।”

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন ছয় ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপের ১০২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি।

উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪০টি জেলার ৯৮টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং মহিলা-ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।

ইসি সূত্র জানায়, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য একজন করে মোট ৯৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণের পরের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত মোবাইল টিমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ২৯৪ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য তিনজন করে ভোটের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং তার পরের দিন অর্থাৎ ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

এছাড়া তৃতীয় ধাপে ১৫ মার্চ ৭৪টি, চতুর্থ ধাপে ২৫ মার্চ ৭২টি, পঞ্চম ধাপে ৩১ মার্চ ৬৫ টি এবং ষষ্ঠ ধাপে ৩ মে ৫৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।

কবির/কেএফ