বাংলাদেশের বাজেটের ছয় গুণ দুর্নীতি হয় ইউরোপে

0
69

eu-corruptionবিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে দুর্নীতি রোধের দাবিতে সব সময় সরব থাকে ইউরোপের দেশগুলো। কিন্তু নিজেদের কি অবস্থা, তা কখনো জানতে চায় না বা বলতে ইচ্ছুক নয়। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল। প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে দেখা যায় ওই এলাকায় যে দুর্নীতি হয়েছে তা আর্থিক ভাবে ইইউ কমিশনের এক বছরের বাজেটের সমান।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইইউ ভুক্ত দেশগুলোতে দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সরকারের মোট বাজেটের প্রায় ছয় গুণ।

এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপও দুর্নীতির উর্ধ্বে নয়। এখানেও অসৎ রয়েছেন, যারা ঘাপটি মেরে বসে থাকেন একটু বেশি পাওয়ার আশায়। দুর্নীতিতে শীর্ষে আছে গ্রিস এবং সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হল ডেনমার্ক।

সদস্য দেশগুলোর বাড়াবাড়ির কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল প্রতিবেদনটি। অবশেষে কমিশনার সিসিলিয়া ম্যালস্টোরেমের হাত ধরে সোমবার ইইউ’র সভাতে উপস্থাপিত হয় এই প্রতিবেদন। সভায় সিসিলিয়া জানান, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইইউ ভুক্ত দেশগুলোটে দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।যা চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সরকারের মোট বাজেটের প্রায় ৫ গুণ।

সিসিলিয়া এ সময় বলেন, ইউরোপের এমন কোনো জায়গা নেই যা দুর্নীতি মুক্ত। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাবলিক সেক্টরে দুর্নীতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শিকার।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ইউরো ব্যারোমিটারের জরিপ অনুযায়ী দুর্নীতিতে শীর্ষে আছে গ্রীস। দেশটির ৯৯ শতাংশ অধিবাসী মনে করেন, গ্রীস জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে দুর্নীতি। একই ধরনের অবস্থা ইতালি, স্পেন, লিথুনিয়া এবং চেক রিপাবলিকে। ইতালিতে এই হার ৯৭ শতাংশ এবং বাকি দেশগুলোতে এই হার ৯৫ শতাংশ।

অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স। এসব দেশগুলোর অবস্থান মাঝামাঝিতে। তবে সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডে।

সদস্য দেশগুলোতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তুত করেছে ইইউ। এসব সুপারিশ নিয়ে খুব শীঘ্রই সংলাপের আয়োজন করবে ইইউ।

ইইউ’র পক্ষ থেকে এই প্রথমবারের ইউরোপে দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হলেও, এ অঞ্চলে দুর্নীতির ঘটনা নতুন নয়। এই কিছুদিন আগে দুর্নীতির অভিযোগে ৪ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন রোমানিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও ২০১২ সালের অক্টোবরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন ইইউ’র স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিশনার জন ডালি।