করপোরেট ট্যাক্স কমতে পারে: আভাস অর্থমন্ত্রীর

0
116

Muhit_DCCIআগামি অর্থবছরে সব ধরনের কোম্পানির আয়কর (করপোরেট ট্যাক্স) কমতে পারে। বাজাটে এ ব্যবস্থা রাখা হবে। খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল এ আভাস দিয়েছেন। বিদ্যমান করপোরেট করহার যথোপযুক্ত নয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তাই একে যৌক্তিক করা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন,এটা এবার পরিবর্তন হবেই।

তালিকা বহির্ভুত কোম্পানির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমলে পুঁজবাজার লাভবান হবে। এতে কোম্পানিগুলোর নেট মুনাফা বা কর পরবর্তী মুনাফা বাড়বে। বাড়বে লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা।

সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির (ডিসিসিআই) দেওয়া প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে মুহিত এ আভাস দেন। এদিন বিকালে সংগঠনটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ সচিবালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করেন।

শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, অর্থনীতিবিদরাও অনেকদিন ধরে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর তাগিদ দিয়ে আসছে। তাদের মতে, করের এত উচ্চ হার বিশ্বের কোথাও নেই। উচ্চ কর হারের কারণে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। একই কারণে কর ফাঁকির প্রবণতাও বেশি। অবশ্য অর্থমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এমনকি চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বেশ কয়েকবার তিনি বিদ্যমান করপোরেট করহারকে যথোপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একে উপযুক্ত করার কোনো চেষ্টা বাজেটে প্রতিফিলত হয় নি। 

উল্লেখ, বর্তমান তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভুত কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েক ধাপের কর হার রয়েছে। এর মধ্য ব্যাংক ও মোবাইল ফোন কোম্পানি ব্যাতিত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যসব কোম্পানির ক্ষেত্রে কর হার ২৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ;তালিকাবহির্ভুত কোম্পানির ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ, তালিকাভুক্তি নির্বশেষে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪২ দশমিক পাঁচ শতাংশ;মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ; সিগারেট কোম্পানি ৪৫ শতাংশ; মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির ৪৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি ৪০ শতাংশ। 

ঢাকা চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলে ছিলেন দুই সহসভাপতি ওসামা তাসির ও খন্দকার শহিদুল ইসলাম,সদ্যবিদায়ী সভাপতি সবুর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান চেম্বারের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্য রয়েছে-জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনিকায়ন,পুঁজিবাজার সংস্কার, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার কমানো,ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম আরো গতিশীল করা,দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা,করজালের আওতা বাড়িয়ে কর হার কমানো, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়ন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন,বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্প্রেড  (আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান) ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন,দ্রুত বিদ্যুতায়নের প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন,গ্যাস সংযোগ,রেল-সড়ক-নৌ-পথ এবং স্থল পথের উন্নয়ন, নৌ ও বিমান বন্দর সমূহের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর বস্তাবায়ন ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি)-র বিষয়ে সরকারের কার্যকর কৌশল গ্রহণের আহবান জানান। তিনি তৈরি পোষাক খাতের নতুন বাজার তৈরিতে সরকারের বিদ্যমান ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার আহবানও জানান তিনি।  

 ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, নতুন ব্যবসা স্থাপন ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের  প্রধান বাধা ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার। সরকার রাজস্ব আয়ের একটি অংশ এবং সরকারি সঞ্চয়গুলো কম সুদে ব্যাংকগুলোতে রাখলে,ব্যাংকগুলো তা গ্রাহকদের কম সুদে ঋণ দিতে পারবে। এতে ব্যাংক সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা সম্ভব।

ঢাকা চেম্বার বলেছে,সুদহার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকের আমানতের সুদ ও ঋণের সুদের হারের পার্থক্য (স্প্রেড) তিন শতাংশে নামিয়ে আনতেও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উচ্চ সুদ হার সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন,সুদের হার বেশি থাকাটা আমাদের চরিত্রে এসে গেছে। সুদের হার পরিবর্তনের জন্য অন্য ধরণের চিন্তা করা উচিত,আমাদের চেষ্টা করা উচিত। ৩০ বছর আগেও এটা নিয়ে আমি কথা বলেছি। কোনো দিনই এটা কমেনি। সমস্যা হলো আমাদের মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশা অনেক বেশি