ধরা পড়তে শুরু করেছে ১০ কোটি টাকার জালিয়াতরা

0
97

Alarafa_Jamuna_Oneগ্রেপ্তার হতে শুরু হয়েছে নাম পরিবর্তন,ভুয়া জমির দলিল ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতকারী ব্যাংক কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় দুদকের ১৬ মামলার মধ্যে ৩ মামলার আসামি ও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খাজাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুপুরে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার আরামবাগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক রাফী মো.নাজমুল সাদাৎ পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেন।

দুদকের কর্মকর্তা জানান,আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। ব্যাংকের এ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কমিশনে আসলে তা অনুসন্ধান শেষে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট ১৬টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে তিনটি মামলার অন্যতম আসামি মোস্তফা কামাল খাজা। তিনি জমি বরাদ্দের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নামে-বেনামে ৪৭টি চেক ইস্যু করে ওয়ান ব্যাংক ও আল আরাফা ব্যাংক থেকে ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ১০ টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রেফতারের পর মোস্তফা কামাল খাজাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আগামিকাল রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুদক সূত্র জানায়,আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের ১৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণার মাধ্যমে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতে করেছেন। এতে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ৭ জন,ওয়ান ব্যাংকের ৩ জন ও যমুনা ব্যাংকের ৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয় তারা ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার জাল দলিল ও খতিয়ান তৈরি ও ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ান ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করেছেন। আর এ টাকা উত্তোলনের সময় তারা নিজেদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে। আর উত্তোলনের পর আত্মসাৎকৃত অর্থ অন্যত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে গোপন করেছেন।

অর্থ কেলেংকারির এ ঘটনায় ওয়ান ব্যাংকের যে চারজন কর্মকর্তা আসামি রয়েছেন তারা হলেন ওয়ান ব্যাংক প্রধান শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ টি এম শহীদ উল্লাহ, মোস্তফা কামাল খাজা, মোসাদ্দেক হোসেন এবং প্রধান শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার এ কে এম জহিরুল ইসলাম। আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের সাত কর্মকর্তা হলেন মতিঝিল কর্পোরেট শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ফারুক আহমেদ এবং সানাউল্লাহ জসিম,অ্যাসিসট্যান্ট অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান এবং এম মনিরুজ্জামানসহ ব্যাংকটির সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ইসাহাক মিয়া,আলমাস হোসাইন ও মোস্তফা কামাল। আর যমুনা ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা হলেন,ধোলাইখাল শাখার অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদ হোসেন,সেকেন্ড অফিসার মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী,আল-আমিন রতন ও ওয়াহিদ মুরাদ।

প্রসঙ্গত,আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক থেকে এ ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অনুসন্ধান শেষে দুদক উপ-পরিচালক বেনজির আহমদ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২০১২ সালের ৭ আগস্ট ১৬টি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এসব আসামিরা।

এইউ নয়ন