বাণিজ্য মেলায় ৬০ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী

0
42
tred fair

tred fairউৎফুল্ল আর উচ্ছাসে একে অপরের হাত ধরে সারিবদ্ধভাবে হাঁটছে ওরা। একজনের হাত অন্যজনের হাতে মুষ্টিবদ্ধ। হঠাৎ করেই উচ্ছাসে হেলে পড়ে একে অপরের গায়ে। বাণিজ্য মেলায় এসে এভাবেই উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে ৬০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে। আর তাদের এই সারিবদ্ধ লাইনের সামনে ও পেছনে ২/৩ জন করে পথ নির্দেশক পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। শুধু নেই তাদের দৃষ্টি। তাদের কেউ ছোট, কেউ মাঝারি, কেউবা আবার বেশ বড়। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণীও রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধীরা পড়ালেখা করে মিরপুরের ব্যাপ্টিস মিশণ ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে। দ্বিতীয় শেণী থেকে দশম শ্রেণী পযন্ত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে দলটিতে।

আর তাদেরকে দেখভাল করার জন্য রয়েছে বিশজন তরুণ-তরুনী। তারা সবাই জেনারেশন বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের সদস্য।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত আগারগাঁয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেখা মেলে এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের। মিরপুর ১০ নং থেকে ৬০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মেলায় নিয়ে এসেছেন এই সংগঠনটি।

মেলাতে আসা দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অন্তরা বলেন, আমার অনেক খুশি লাগছে। হয়ত চোখে দেখতে পারছিনা কিন্তু তবুও বেশ ভাল লাগছে। সব কিছু দেখতে পেলে আরও ভালো লাগত।

বেশ আত্নতৃপ্তি নিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী জুলেখা বলেন, ভাইয়ারা আর  আপুরা আমাদের আইসক্রীম ও অনেক কিছু ও খাওয়াইয়াছে। নাগরদোলা ও ট্রেনে চড়েছি। অনেক ভাল লেগেছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অন্য শিশুদের মধ্যে মাহিয়া, মীম ও শিউলি জানায়, অনেকক্ষণ থেকে মেলায় ঘুরছি। এখানে আসার মজাই আলাদা। বার বার আনলে আরও ভাল লাগত।

সংগঠনের সদস্য স্বেচ্ছাসেবক নুপূর বিশ্বাস জানান, তারা সবাই বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করেই পড়াশুনার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে এসব কাজে অংশগ্রহণ করেন।

সংগঠনটির প্রোগ্রাম অফিসার লিফটন গাইনের সাথে কথা হলে তিনি অর্থসূচককে জানান, মেলা পরিদর্শন ও বিনোদন দেওয়ার জন্যই তারা এসব প্রতিবন্ধী শিশু ও তরুণীদের এখানে নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও তো তারা আমাদের মতই রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। আনন্দ বিনোদন নেওয়ার ইচ্ছা তাদেরও আছে। তাই আনন্দ দেওয়ার জন্যই তাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। চোখে দেখতে না পারলেও আমরা মুখে বিভিন্ন জিনিষের বর্নণা দেই এতেই তারা উৎপুল্ল হয়।

মেলায় এসব প্রতিবন্ধীদের সাথে কিছুক্ষণ ঘুরে দেখা গেল, তাদের গাইডরা যখনই কোনো ঘোষণা দিচ্ছে সবাই মিলে একসাথে চিৎকার করে উচ্ছাস প্রকাশ করছে।

লিফটন জানান, সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করা হলো জেনারেশন বাংলাদেশ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।

স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির সদস্যরা নিজ নিজ উদ্যোগে টাকা উত্তোলন করে এদের সবার ব্যয়ভার বহন করেন বলে জানান তিনি।

জেইউ