মনের মতো ঘর সাজাতে বেতের ফার্নিচার

0
330
Bet jpg

Bet jpgআগে বাড়ির চারপাশে বন-জঙ্গল ছিল। যেখানে জন্মাত নানা প্রজাতির বেত, লতা, বাঁশ। যা দিয়ে তৈরি হত নানা ধরনের ফার্নিচার। ছিল মনকারা সব ডিজাইন। এখন সে বনও নেই, বনের সে বেত, লতা এবং কি বাঁশও নেই। আর  যা পাওয়া যায় চাহিদার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। তাই তো কবি খুব আক্ষেপের সাথে বলেছেন “দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লও এ নগর”।

শহর-নগরের এই যান্ত্রিকতার ভিড়ে সবার মন চায় গ্রামীণ সে ঐতিহ্যের ডিজাইন দিয়ে ঘর সাজাতে। কিন্তু এসব ফার্নিচারের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকের মনের আশা মনে মধ্যেই থেকে যায়। তবে এখন আর মন খারাপ করার কিছুই নেই। দামে সস্তা, দেখতে ভাল, ডিজাইন সুন্দর এমন সব বাঁশ, সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছ ও বেতের তৈরি ফার্নিচার দিয়ে আপনি মনের মতো করে ঘর সাজাতে পারেন।

বেত বা বাঁশের তৈরি বাহারি ডিজাইনের এসব আসবাবপত্র ও ফার্নিচার এখন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নমধ্য বিত্তের মধ্যে নেই, এখন অনেক ধনী পরিবারের লোকেদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে এসব ফার্নিচার ও আসবাবপত্র।

দিন বদলের সাথে সাথে পরিবর্তন এসেছে মানুষের চাহিদা এবং রুচির। আধুনিক স্টাইলে এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাসাবাড়িসহ অফিসগুলোতেও ব্যবহার করা যেতে পারে বেতের সব ফার্নিচার। বেতের ফার্নিচার ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক দিন আগে থেকেই। তবে নিত্য নতুন ডিজাইন, টেকসই ও হালকা, বহনে সুবিধা হওয়ার কারণে বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাহিদা।

বেত ও বাঁশের জন্ম :

বেত ও বাঁশ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। প্রাকৃতিকভাবেই এর জন্ম হয় ঝোপ-ঝাড় ও জঙ্গলে। তেমন কোনো লালনপালন ছাড়াই এটি অন্যান্য জঙ্গল গাছের মতোই বেড়ে উঠে। এর গোড়া কেটে ফেললে পুনরায় নতুন বেতের ডাল জন্ম নেয় এর মূল কাণ্ড থেকে।

জন্ম ও আমদানির স্থান :

বাংলাদেশের সুন্দরবন, সিলেট, চিটাগাং, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে বেত জন্মে। এখন বাংলাদেশের ঐ সকল স্থানে এ সকল ফার্নিচারের কাঁচামাল না জন্মানোর কারণে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া থেকে কিছু কিছু বেত আমদানি করা হচ্ছে।

বেত ও  বাঁশের তৈরি ফার্নিচার এবং আসবাবপত্র :

বেতের সিঙ্গেল ও ডাবল দুই সাইজের সোফা, টেবিল, আলমারি, দরজা-জানালার পর্দা, বেতের রুম পার্টিশন, ইজি চেয়ার, বেতের আয়না, বসার মোড়া, লন্ড্রি বাক্স, নানা ধরনের ঝুড়ি, বিভিন্ন প্রকারের ডালা, দোলনা, ট্রে সেট, মহিলাদের বেনিটি ব্যাগ, নানা ধরনের বিচিত্র আকৃতির বিভিন্ন প্রকার ফার্নিচার ও আসবাবপত্র সামগ্রী পাওয়া যায়।

দর-দামঃ

বেতের সিঙ্গেল ও ডাবল দুই সাইজের সোফা ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, টেবিল ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, বেতের রুম পার্টিশন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ইজি চেয়ার ১ হাজার ৩ হাজার টাকা, বেতের আয়না ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, বসার মোড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, লন্ড্রি বাক্স ৮০০ থেকে হাজার টাকা, নানা ধরনের ঝুড়ি ১০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, বিভিন্ন প্রকারের ডালা ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, দোলনা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, ট্রে সেট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, মহিলাদের বেনিটি ব্যাগ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেতের ফার্নিচার বিক্রেতা মো. সহিদুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, বেতের তৈরি ফার্নিচার এখন সবার পছন্দের। আমরা এখানে যে ফার্নিচার রেখেছি তার বাইরেও কেউ চাইলে তার রুচি অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে ফার্নিচার বানাতে পারবে।

ফার্নিচার ক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, বেতের ফার্নিচার দেখতে অনেক সুন্দর। তার ওপর এটা আমাদের আদি একটি ঐতিহ্য। তাই এখানে আসলাম বাসার জন্য কিছু বেতের ফার্নিচার কিনতে।

আরেক জন ক্রেতা ফাতিমা জামান বলেন, বাসার জন্য আমি বেত, বাঁশ জাতীয় ভিন্নধর্মী ফার্নিচার দিয়ে ঘর সাজাতে পছন্দ করি। তাই বেতের ফার্নিচার কিনতে এসেছি।

এসএস/কেএফ