এক বছরে এডিআর কমেছে ৭ শতাংশ

0
33
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন (ফাইল ছবি)

BBগত এক বছরে ব্যাংকগুলোর আমানতের সাথে ঋণ প্রদাণের অনুপাত (এডিআর) কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দার কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে ব্যাংগুলোতে জমা হওয়া আমানতের তুলনায় ঋণ সরবরাহ কমে এডিআরও কমছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুসারে ২০১৩ সালে আমানত বেড়েছে ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর বিপরীতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আমানত বৃদ্ধির হারের চেয়ে ঋণ প্রবাহ কম বাড়ায় কমে যাচ্ছে এডিআর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সাল শেষে তফসিলভুক্ত ৫৬ টি ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২৭ হাজার ২৯৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো তাদের কাছে রাখা গ্রাহকদের আমানতের মাত্র ৭১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পেরেছে।

২০১২ সাল শেষে যার পরিমাণ ছিল ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের মূলধনের শতকরা ৮৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারে। আর শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়াহ শাখার জন্য এ হার নির্ধারণ করা আছে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় তারা গ্রাহকদের আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত করতে আমানতে সুদের কমাচ্ছে।

২০১৩ সালের শুরুতে আমানতের গড় সুদ হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা ধারাবাহিকভাবে কমে ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে।

এদিকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা  অতিরিক্ত তারল্য অলস পড়ে আছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ২০১৩ সাল নির্বাচনী বছর হওয়ার কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা-উদ্বেগ ছিল জনমনে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীরা  বিনিয়োগের বদলে ব্যাংকে টাকা রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন । আর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ব্যাংকিং খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা  বলছেন,  এ বছরে ব্যবসায়িক ঝুঁকির কারণে  উদ্যোক্তারা  বিনিয়োগের বদলে টাকা রেখেছেন ব্যাংকে, যার কারণে ব্যাংকগুলো একের পর এক সুদের হার কমালেও বাড়ছে আমানত।

তারা বলছেন,  আমানতের এসব অর্থ ব্যাংকও বিনিয়োগ করতে না পারায় ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৯টি ব্যাংকের গত বছরের চেয়ে আমানতের পরিমাণ কমেছে। এর মধ্যে ৪টি মূল ব্যাংক এবং ৫টি মূল ব্যাংকের ইসলামী শরীয়াহ শাখা রয়েছে।

আলোচ্য সময়ে ১৪টি ব্যাংকের গত বছরের তুলনায় ঋণ প্রদান কমেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম.মাহফুজুর রহমান বলেন,  ব্যাংক চলেই গ্রাহকদের জন্য। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি যদি বিনিয়োগ বান্ধব না হয় তবে উদ্যোক্তারা বিনিয়েগে সাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না।বিনিয়োগকারীদের অধিক পরিমানে আমানত রাখার বিপরীতে ব্যাংকগুলোর একটু আর্থিক ক্ষতিতো মানতেই হবে।