ঝিনাইদহে বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

0
29
zinaidah

zinaidahঝিনাইদহে বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলার কৃষকরা। প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করেও সকাল-সন্ধ্যা তারা মাঠের কাজে ব্যস্ত। ভোর হতে না হতেই লাঙল-কাস্তে নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেককে সকাল ও দুপুরের খাবার খেতে হচ্ছে মাঠে বসে।

জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ড ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, চারা রোপণ, জমির আগাছা পরিস্কার, সেচ দেওয়া, বিষ প্রয়োগ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে ব্যস্ত সময় পার করছে। কাজ বেশি হওয়ায় অনেক সময় নারীরাও পুরুষের সাথে কাজ করছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন জানান- এবার জেলায় বোরো ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৩১০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত চাষ হয়েছে ৬৫ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষমাত্রা নির্ধারণের ৮০% অর্জিত হয়েছে। চাষ পুরোপুরি শেষ হলে এবার বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বীজতলার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৩৪১ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৫ হাজার ১৩১ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষমাত্রা নির্ধারণের চেয়ে কিছুটা কম।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের ঋণ প্রদান ও জমি চাষ, সার-কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি শেখানো এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সু-পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ঝিনাইদহ জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন  হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার উল্লা গ্রামের বোরো চাষী ফিরোজ জোয়ার্দার জানান, তিনি এবার প্রায় ৯ বিঘা জমিতে বোরো রোপণ করেছেন। সার, কীটনাশক, সেচ ও লেবারসহ বিভিন্ন উপকরণ বাবদ বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। জমিতে ভালো ফলন হলে বিঘা প্রতি ২০/২৫ মণ ধান পাওয়া যায়।

একই গ্রামের সুলতান সিকদার জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে সার কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষের খরচ বেড়েছে দিগুণ। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি ধানের দাম। ফলে ধানের ফলন ভালো হলেও লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

সদর উপজেলার চেউনিয়া গ্রামের বোরো চাষী নজরুল ইসলাম, নুরুল কাজী, মানিক বিশ্বাস ও আড়মুখী গ্রামের ওহিদুল ইসলাম, আসলাম, আতিয়ার রহমানসহ অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে বোরো রোপণ করে তারা এবার বাম্পার ফলনের অপেক্ষায় আছেন।